Blog · Sep 17, 2026

ভেন্ডর বিলে টিডিএস কাটার আগে যা জানা দরকার

বিল পাস, তারপর কাটা

একটি অফিসে কনসালট্যান্ট বিল পঞ্চাশ হাজার টাকা। সহকারী “সেবা দশ শতাংশ” শুনে পাঁচ হাজার কাটেন। চুক্তিতে ভিন্ন হার থাকতে পারে, অথবা থ্রেশহোল্ডের নিচে ছাড়। টিডিএস ক্যালকুলেটর সাধারণ হার দিয়ে আনুমানিক দেখায়। এটা উৎসে কর চালান নয়।

কাটার আগে কয়েকটা জিনিস দেখুন। বিলের প্রকৃতি কী। চুক্তিতে কী লেখা। টিআইএন আছে কি না। থ্রেশহোল্ড পেরিয়েছে কি না। এনবিআর সূচির কোন সারি। আগে অগ্রিম কাটা আছে কি না। এইগুলো না মিলিয়ে টুল খুললে ভুল খাতে টাকা আটকে থাকে মাসের পর মাস।

পণ্য সরবরাহ আর পেশাগত সেবা এক হার নয়। অফিস ভাড়া আলাদা। ব্যাংক সুদ আলাদা। কমিশন আলাদা। টুলে যে ক্যাটাগরি আছে, সেগুলো সাধারণ অফিস দৃশ্য। বিশেষ এসআরও টুল নাও রাখতে পারে। মিল না থাকলে সূচি জিতবে।

নেট পেমেন্ট সমান বিল বিয়োগ টিডিএস, তার সঙ্গে ভ্যাট খাত থাকতে পারে। ভ্যাট ভ্যাট পাতায়। একই বিলে দুই কাটতি হতে পারে। এক টুলে দুইটা মেশাবেন না।

বেতনের কর আর ভেন্ডর কর এক নয়

কর্মচারীর বেতন থেকে মাসিক কর আয়কর পাতায়। ভেন্ডর টিডিএস সেই পাতা নয়। ফ্রিল্যান্সার যদি পে-রোলে না থাকেন, টিডিএস খাত। যদি পে-রোলে থাকেন, বেতন খাত। একই ব্যক্তিকে এক মাসে ভেন্ডর এক মাসে বেতন ধরবেন না গুলিয়ে।

নন-রেসিডেন্টের হার ভিন্ন হতে পারে। দ্বৈত কর চুক্তি হিসাবরক্ষকের কাজ। সরকারি উৎসে কর কোডের পুরো বই এখানে নেই। চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য কিছু পেমেন্ট, আমদানি পর্যায়ের আগাম কর এই ফর্ম নয়।

ধরুন বিল পঞ্চাশ হাজার, টিআইএন আছে, চুক্তি আছে, কাজ শেষ, থ্রেশহোল্ড পেরিয়েছে। সূচির সেবা সারি পড়ে টুলে সেই হার দিন। পণ্য সারি চাপলে অঙ্ক শুদ্ধ দেখাবে, আইন ভুল হবে। নেট পে হিসাব করে ভাউচারে তুলুন। স্ক্রিনশট চালান নয়।

থ্রেশহোল্ডের নিচে কাটা থাকলে পরে ফেরত নিয়ে ঝামেলা হয়। অগ্রিম কাটা থাকলে বাকি বিলে শুধু বাকি অংশ। দুই কিস্তিতে বিল হলে প্রতি কিস্তি আলাদা করে সূচি মিলিয়ে নিন। এক টাকা রাউন্ডিং চালানের সঙ্গে মিলতে পারে। বড় ফারাক হলে সারি আবার পড়ুন।

এই পরামর্শ কখন কাজে লাগে না

এই ফর্ম এনবিআর পোর্টাল নয়। হার বাজেটে বদলায়। কাটার দিনের সূচি খুলুন। ফেসবুক গ্রুপের হার সূচি নয়। সহকর্মী ছুটিতে গেলে যেন খাতায় বিল নম্বর, হার, কোড, তারিখ পড়ে কাটতে পারেন। পেমেন্ট ছাড়ার আগে আবার একবার টিক দিন। আগে সূচি, পরে টুল, পরে ভাউচার। উল্টো করলে অডিট ধরে।

কাটার আগে বিলটা পড়ুন

ভেন্ডর বিল এলে অনেকেই তাড়াহুড়োয় টিডিএস কাটেন। হার ভুল, বেস ভুল, আবার এমন বিল যেখানে কাটা লাগে না। টিডিএস ক্যালকুলেটর খসড়া দেখায়। এনবিআরের হার ও সার্কুলার জিতবে। এই সাইট কর কর্তৃপক্ষ নয়। কাটার আগে বিলে সেবা না পণ্য, স্থানীয় না আমদানি, নিবন্ধন আছে কি না—এগুলো দেখুন। টুল সেই কাগজ পড়ে না।

এক প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারী সব বিলেই দশ শতাংশ কাটতেন। কিছু বিল পণ্যের, যেখানে নিয়ম অন্য। ভেন্ডর রাগ করতেন, হিসাবও নষ্ট। হার মুখস্থ নয়, সার্কুলার ও বিলের ধরন। পাতায় যদি সেবার ধরন বাছতে বলে, মিলিয়ে বাছুন। না বুঝলে কাটবেন না, হিসাবরক্ষককে দেখাবেন। না কাটা আর ভুল কাটা দুইটাই সমস্যা। ভুল কাটা পরে ফেরতের জ্বালা।

গ্রস না নেট

কিছু মানুষ ভ্যাট বাদ দিয়ে টিডিএস কাটেন, কেউ গ্রসে কাটেন। নিয়ম বিল ও সার্কুলার বলে। টুলের ঘর কোনটা, সেটা পড়ুন। অনুমানে গ্রস ধরে বড় কর্তন দেখিয়ে ভেন্ডরকে চাপ দেবেন না। চালান ও সনদ চাইলে ভেন্ডর দিতে পারেন। সনদ ছাড়া কম হার—যদি নিয়ম থাকে—কাগজ দেখে। ফেসবুক কমেন্টের হার নয়।

অগ্রিম আয়কর, ভ্যাট, টিডিএস—নাম গুলিয়ে এক বিলে তিনবার কাটবেন না। ভ্যাট আলাদা। আয়কর বার্ষিক খসড়া। টিডিএস উৎসে কর্তন। তিন পাতা তিন কাজ। মাসের শেষে চালান জমা অফিসের কাজ, এই টুল জমা দেয় না। চালানের চালান নম্বর টুলে নেই। খাতায় রাখুন।

ক্ষুদ্র বিল, থ্রেশহোল্ড নিচে—কখনো কাটা লাগে না। সব বিল কাটলে ভেন্ডর ছোট হয়ে যান, সম্পর্ক নষ্ট। নিয়ম পড়ে ছাড় আছে কি না দেখুন। আবার বড় বিল না কেটে নিজের ঝুঁকিও বাড়াবেন না। মাঝখান: বিল পড়া, হার মিলানো, তারপর টুল। টুল আগে, বিল পরে—এই অভ্যাস ভাঙুন।

ভেন্ডরকে যা বলবেন

কর্তনের পর নেট কত পাবেন, সেটা আগে বলুন। বিলের মোট আর হাতে পাওয়া টাকা আলাদা দেখে অনেকে ভাবেন অফিস ঠকাচ্ছে। এক লাইনে লিখুন: গ্রস, কর্তন, নেট। টুলের খসড়া দেখিয়ে বলুন এটা আনুমানিক, চালান অনুসারে চূড়ান্ত। সনদ চাইলে সময় দিন। এই স্বচ্ছতা তর্ক কমায়। টুল সেই স্বচ্ছতার সংখ্যা যোগায়, সম্পর্ক আপনি সামলান।

ছোট ভেন্ডর আর বড় অফিস

ছোট সাপ্লায়ারের বিল কম। থ্রেশহোল্ডের নিচে কাটা নাও লাগতে পারে। বড় অফিসের সহকারী অভ্যাসে কাটেন। সাপ্লায়ারের মাস নষ্ট। নিয়ম পড়ে ছাড় আছে কি না দেখুন। আবার বড় সেবার বিল না কেটে অফিসের ঝুঁকি। দুই দিক চোখ। টুল হার বলে, বিল বলে কাটবেন কি না। বিল না পড়ে টুল চালালে সব বিল কাটা হয়, সম্পর্ক কাটে। সম্পর্ক কাটা ব্যবসা কাটে। ব্যবসা বাঁচাতে বিল পড়ুন। পড়তে সময় দুই মিনিট। ভুল কর্তন ফেরত মাস। মাস না খোয়াতে দুই মিনিট দিন। ভেন্ডরকে নেট আগে বলুন। আগে না বললে তিনি মোট আশা করেন, পরে রাগ করেন। রাগের ইমেইল হিসাব নষ্ট করে, মানুষ নষ্ট করে। এক লাইন গ্রস-কর্তন-নেট সেই ইমেইল আটকায়। টুল সেই লাইনের সংখ্যা দেয়। লাইনটা আপনি লেখেন। লিখুন। না লিখে টাকা পাঠাবেন না। পাঠালে পরে ব্যাখ্যা দিতে হয়। ব্যাখ্যা আগে সস্তা, পরে দামি। সস্তা সময়টা এখন, বিল হাতে এসেছে যেদিন। সেইদিন টুল খুলুন, পরের সপ্তাহে নয়। সপ্তাহ পরে হার ভুলে যান কোন সার্কুলার দেখেছিলেন। সেদিন খাতায় হার লিখে রাখুন। খাতা মনে রাখে, মাথা রাখে না সবসময়।

চালান জমার তারিখ ক্যালেন্ডারে কাটুন। টুল তারিখ কাটে না। তারিখ না কাটলে দেরি, দেরি জরিমানা। জরিমানা ভেন্ডরের রাগের চেয়েও ব্যথা দিতে পারে অফিসে। অফিসের ব্যথা না চাইতে ক্যালেন্ডার আজ কাটুন। কেটে তারপর বিলের সারি সাজান। সারিতে গ্রস, হার, কর্তন, নেট। সারি ছাড়া মাথায় রাখবেন না। মাথা ভোলে। এক্সেল ভোলে না যদি সেভ থাকে। সেভ রাখুন প্রতি বিলে। প্রতি বিলের পর টুল, তারপর সারি, তারপর সেভ। তিন কাজ এক মিনিট। মিনিট না দিয়ে মাস শেষে স্মৃতি দিয়ে ভরবেন না। স্মৃতি ভুল হার দেয়। ভুল হার ভুল চালান। ভুল চালান ফেরত। ফেরত লাইন। লাইন এড়াতে মিনিট। মিনিট আজ। আজকের মিনিট কালকের শান্তি। শান্তি চাইলে এই মিনিট দিন। না দিলে টুল বৃথা। বৃথা না রাখতে চালান খাতা টুলের পাশে রাখুন। পাশে মানে একই টেবিল। টেবিলে দুই জিনিস: বিল, ব্রাউজার। ব্রাউজারে টুল, হাতে বিল। হাত আর চোখ একসাথে। একসাথে না হলে হার অন্য বিলের হয়। অন্য বিলের হার এই বিলে বসালে ভেন্ডর কাঁদে। কাঁদতে না দিতে বিল হাতে নিয়েই টুল খুলুন। টেবিলে বিল না থাকলে টুল খুলবেন না। না খোলাই ভালো তখন। থাকলে খুলুন। খুলে কাটুন। কেটে লাইন লিখুন। লিখে পাঠান নেট। পাঠানো শেষ কাজ নয়, চালান শেষ কাজ। চালান করে ফাইল বন্ধ। বন্ধ ফাইল শান্ত অফিস। শান্ত অফিসই চাই।