পুরনো এইচআরএ অব্যাহতির গল্প
সহকর্মী বলেন বাড়ি ভাড়া ভাতা করমুক্ত। আয়কর আইন ২০২৩-এর যে মডেল আয়কর ২০২৫-২৬ পাতা ধরে, নগদ ভাতা চাকরির আয়ে বসে। তারপর এক-তৃতীয়াংশ বা পাঁচ লক্ষ টাকা, যেটা কম, সেই রেহাই। পে-স্লিপে “exempt HRA” লেখা থাকলেও এই ক্যালকুলেটর সেই পুরনো সার্কুলার নয়। রিটার্ন যিনি করেন, তাঁকে স্লিপ দেখান।
অর্থবছর ২০২৫-২৬, করবর্ষ ২০২৬-২৭। পুরনো বছরের স্ক্রিনশট দিয়ে ভরবেন না। পাতার বছর দেখে চালান।
নিল পরিমাণ ব্যক্তিভেদে আলাদা। সাধারণ পুরুষ চার লক্ষ। নারী বা পঁয়ষট্টি বছরের বেশি সাড়ে চার লক্ষ। তৃতীয় লিঙ্গ বা প্রতিবন্ধী পাঁচ লক্ষ পঁচিশ হাজার। গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা বা জুলাই যোদ্ধা সাড়ে পাঁচ লক্ষ। প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য অতিরিক্ত টুলের নিয়ম অনুসারে যোগ হতে পারে। ভুল ব্যক্তি-টাইপ টিক করলে নিল বদলায়, রিটার্নে মিলবে না। নারী-পুরুষ ভুল টিক টুল আটকায় না, রিটার্ন আটকায়। সত্যি লিখুন।
নিলের পর দশ, পনেরো, কুড়ি, পঁচিশ, ত্রিশ শতাংশ। ন্যূনতম কর পাঁচ হাজার—প্রথমবার টিক থাকলে এক হাজার—কেবল যখন স্ল্যাব আয় নিলের ওপর। শূন্য ফল মানে রিফান্ড দাবি নয়।
কী লিখবেন, কী লিখবেন না
বেসিক ও নগদ ভাতা করযোগ্য ব্লকে। ডিউটি ট্রাভেল ও নির্দিষ্ট চিকিৎসা শূন্য রাখুন যদি প্রতিদানের রসিদ না থাকে। চাকরির গাড়ি ডিমড পারকুইজিট, নামে বেতন না হলেও। গাড়ি না থাকলে টিক দেবেন না। মাসিক নগদ আর বার্ষিক বোনাস আলাদা। বোনাস বারো গুণ করবেন না। বেসিক না জানলে পে-স্কেল বা ২০২৬ স্কেল। স্লিপ থাকলে স্লিপ। উৎসব বোনাস পাতা থেকে আনুমানিক নিয়ে ট্যাক্স পাতার এক্সট্রায় বসান। কিস্তি সময়ের বেসিক আর পূর্ণ স্কেল এক বছরে মেশাবেন না। যে আয় হয়েছে, সেটাই।
রিবেট ধারা ৭৮ সীমাবদ্ধ। ডিপিএস, সরকারি সিকিউরিটি—পাতার সিলিং। সব বক্সে কুড়ি লক্ষ লিখে কুড়ি লক্ষ রিবেট হয় না। চাকরি থেকে কাটা ট্যাক্স লিখুন। ভেন্ডর টিডিএস নয়, ভ্যাট নয়। সহকর্মীর নিল আলাদা, তাঁর ফল দেখিয়ে নিজের রিটার্ন ভরবেন না।
অফার লেটার থেকে খাতা মিলিয়ে টুল চালান। টুল মিলিয়ে রিটার্ন ভরবেন না উল্টো দিকে। রিটার্ন জমার আগে পাতার বছর, ব্যক্তি-টাইপ আর স্লিপের বেসিক তিনবার মিলিয়ে নিন। এই তিন ভুল বাকি হিসাব নষ্ট করে। সত্যি খাতা নিয়ে প্র্যাকটিশনারের কাছে যান, স্ক্রিনশট একা নিয়ে নয়।
এই পরামর্শ কখন কাজে লাগে না
কোম্পানি কর, কিছু উপকরণের চূড়ান্ত টিডিএস, সারচার্জের সব রূপ, কৃষি প্রধান আয়, শেয়ারহোল্ডার-পরিচালকের জটিল পারকুইজিট এই পাতায় নেই। এনবিআর সফটওয়্যার ও রিটার্ন ফর্ম জিতবে। পরের অর্থ আইনে স্ল্যাব বদলালে এই লেখা পুরনো। এই সাইট রিটার্ন পোর্টাল নয়। পরিকল্পনার অনুমান মাত্র। খাতায় ইনপুট আর তারিখ লিখে রাখুন।
ক্যালকুলেটরে ভুল ঘর ভরলেই ভুল কর
আয়কর খসড়ায় মানুষ গ্রস বেতন এক জায়গায় দেন, আবার ভাতা আলাদা যোগ করেন, আবার বোনাস তৃতীয়বার। সংখ্যা ফুলে ওঠে, ভয় বাড়ে। আয়কর ক্যালকুলেটর যে ঘর চায়, সেই নির্দেশ পড়ুন। একই টাকা দুই ঘরে নয়। ২০২৫-২৬ সালের স্ল্যাব পাতায় যা আছে সেটা খসড়া। এনবিআর সফটওয়্যার ও সার্কুলার জিতবে। এই সাইট রিটার্ন জমা নেয় না। রিটার্ন পোর্টালে হবে। টুল বাসায় অনুমান।
মহিলা, পুরুষ, বয়স, স্বাধীনতা যোদ্ধা—থ্রেশহোল্ড আলাদা হতে পারে পাতার অপশন অনুসারে। ভুল ক্যাটাগরি বাছলে স্ল্যাব অন্য। নিজের সনদ অনুসারে বাছুন, সহকর্মীর ক্যাটাগরি নয়। বেতন ছাড়া বাড়ি ভাড়া আয়, ফ্রিল্যান্স, সুদ—যে ঘর আছে পূরণ করুন, যে ঘর নেই সেটা জোর করে বেতনে মেশাবেন না। মেশালে খসড়া অর্থহীন। বিনিয়োগ রেয়াতের রসিদ ছাড়া রেয়াত দেখাবেন না নিজেকে। রসিদ এলে ঘরে দিন। আগে থেকে কম কর দেখিয়ে নিশ্চিন্ত হবেন না।
বেতন থেকে উৎসে কর আর বার্ষিক হিসাব
স্লিপে যে টিডিএস কাটে, সেটা বার্ষিক কর নয় সবসময়। কম বা বেশি কাটতে পারে। বছর শেষে মিলিয়ে রিটার্ন। টুল যদি উৎসে কর্তন ঘর দেয়, স্লিপের মোট দিন, অনুমান নয়। স্লিপ হারালে অফিস থেকে সামারি চান। টিডিএস পাতা ভেন্ডর বিলের খসড়া, ব্যক্তিগত বেতন কর নয় গুলিয়ে। দুই পাতা। পে স্কেল থেকে বেসিক এনে কর ঘরে বসানো যায় খসড়ায়, ভাতা বাদ দিলে ভুল। স্লিপের গ্রস ও কর্তনই ভালো উৎস। পে স্কেল গ্রেড ২০২৬ পাতায়, কর অন্য পাতা। গ্রেড কর নির্ধারণ করে না সরাসরি, আয় করে। আয়ের খসড়া স্লিপ।
রিটার্ন জমার আগে পোর্টালের ছক পড়ুন। টুলের স্ল্যাব পুরনো হতে পারে। পাতার সাল দেখুন। নতুন বাজেট এলে খবর মিলিয়ে নিন, শুধু পুরনো স্ক্রিনশট নয়। জরিমানা ও সুদের হিসাব এই টুল নাও করে। দেরি হলে পোর্টালের নিয়ম। নথি—সনদ, টিআইএন, বিনিয়োগ রসিদ—ক্যালকুলেটর চায় না, পোর্টাল চায়। টুল চালিয়ে কাগজ ফেলে রাখবেন না। খসড়া দেখে কাগজ গুছায় সাহায্য হয়, এটাই লাভ। কর ফাঁকি নয়, কর বোঝা। বোঝাটা আনুমানিক জানা ভয় কমায়। ভয় কমে গেলেও পোর্টালে ঢোকা লাগবেই। টুল সেই ঢোকার আগের আয়না, আয়নায় ঢোকা যায় না।
রসিদ ছাড়া রেয়াত দেখাবেন না নিজেকে
বিনিয়োগের কথা মনে আছে, রসিদ নেই। টুলে রেয়াত দিলে কর কম দেখায়, মন শান্ত। পোর্টাল রসিদ চায়। রসিদ না থাকলে সেই শান্তি ভাঙে। তাই রসিদ এলে ঘরে দিন, আগে নয়। আগে দিলে নিজেকে ঠকান। ঠকানো কর ফাঁকি নয়, আত্মপ্রবঞ্চনা। আত্মপ্রবঞ্চনায় রিটার্ন দেরি। দেরি জরিমানা। জরিমানা টুল নাও গণে। গণলেও পোর্টাল জিতবে। পোর্টালের দিকেই হাঁটুন। টুল পথে আয়না। আয়নায় রসিদ দেখা যায় না। রসিদ ড্রয়ারে। ড্রয়ার খুলে তারপর টুল। উল্টো ক্রমে সুন্দর সংখ্যা, ফাঁকা ড্রয়ার। ফাঁকা ড্রয়ার নিয়ে পোর্টালে বসবেন না। বসলে বারবার বেরোতে হয়। বেরোতে কষ্ট। কষ্ট না চাইলে ড্রয়ার আগে। বেতন স্লিপও ড্রয়ারে। স্লিপের উৎসে কর টুলে মিলিয়ে দেখুন। না মিললে অফিস জিজ্ঞেস। গ্রুপ নয়। গ্রুপে হার পুরনো। পুরনো হার নতুন বাজেটে মরে। বাজেটের পর পাতার সাল দেখুন। সাল পুরনো হলে খবর মিলিয়ে, শুধু টুল নয়। টুল আপডেট হতে সময় লাগে। সময়ের ফাঁকে সার্কুলার। সার্কুলার পড়ে টুল চালান। চালিয়ে কাগজ গুছান। গুছিয়ে পোর্টাল। পোর্টাল শেষ কাজ, প্রথম নয়। প্রথম কাগজ। কাগজ জোগাড় করতে টুলের ভয় কমে। ভয় কমে গেলেও জমা দিতে হয়। জমা না দিলে খসড়া বৃথা। বৃথা না করতে ক্যালেন্ডারে জমার তারিখ কাটুন। তারিখ কাটা টুল করে না। আপনি করেন। করুন আজ। কালকের ভয় আজকের কালি দিয়ে কমে। কালি ক্যালেন্ডারে, সংখ্যা টুলে। দুইটাই লাগে। একটা বাদ দিলে রিটার্ন অসম্পূর্ণ। অসম্পূর্ণ না রাখতে দুইটাই করুন।
টিআইএন সনদ ড্রয়ারে আছে কি না আজ দেখুন। নেই তো আগে সেটা। সেটা ছাড়া টুলের খসড়া পোর্টালে বসবে না সহজে। সহজে বসাতে কাগজ আগে। আগে দেখা, পরে সংখ্যা। সংখ্যা সুন্দর হলেও সনদ না থাকলে সুন্দর বৃথা। বৃথা না রাখতে সনদ খুঁজুন আজ দুপুরে। দুপুরে পাওয়া কালকের রাত বাঁচায়। বাঁচাক বলে খোঁজা। খুঁজে পেলে টুল খুলুন। না পেলে অফিসের পথ। পথ টুল দেখায় না। দেখায় না বলে নিজে খুঁজুন। খুঁজে তারপর স্ল্যাব। স্ল্যাব পাতার সাল মিলিয়ে। মিলিয়ে ঘর ভরুন একবার করে। করে দুইবার এক টাকা নয়। নয় বলে পড়ে ভরুন। ভরা শেষে রসিদ ঘর। ঘর খালি রাখুন রসিদ না থাকলে। থাকলে ভরুন। ভরে খসড়া সেভ করুন নিজের খাতায়। খাতায় তারিখ। তারিখ জমার আগে আবার খুলুন। খুলে পোর্টালের ছক মিলান। মিলিয়ে জমা। জমা শেষে টুল বন্ধ। বন্ধ করে ক্যালেন্ডারে পরের বছরের কথা না ভাবলেও চলে এক রাত। রাত শান্ত হোক। শান্ত রাত কর ভয় কমায়। কমায় বলে খসড়া দরকার। দরকার মিটিয়ে কাগজ রাখুন এক ফোল্ডারে। ফোল্ডারের নাম সাল। সাল শেষে ফোল্ডার বন্ধ নয়, নতুন সালে নতুন। নতুন শুরু পুরনো কাগজ দেখে সহজ। সহজ করতে পুরনো রাখুন। রাখা অভ্যাস টুলের চেয়ে বড়। বড় অভ্যাস ছোট টুলকে কাজে লাগায়। লাগাক। লাগাতে আজ সনদ দেখুন। দেখা শেষে সংখ্যা। সংখ্যা শেষে জমা। জমাই করের কাজ। কাজ টুল শেষ করে না। আপনি শেষ করুন পোর্টালে। পোর্টালে গিয়েই শেষ। শেষ দেখে ঘুমান। ঘুম এখন অধিকার। অধিকার জমার পর। পরের আগে জেগে কাগজ গুছান। গুছিয়ে টুল। টুল শেষে পোর্টাল। এই তিন ধাপ মনে রাখুন। রাখলে ভয় কমে। কমে গেলেও ধাপ বাদ দেবেন না। না বাদ দিয়েই শান্তি। শান্তি চাই। চাইলে ধাপ রাখুন আজ থেকে। থেকেই যথেষ্ট। যথেষ্ট করুন। বাকি বাজেট সরকারের। সরকারের ছক পড়ে চলুন। চলাই নাগরিক কাজ। কাজ করুন। টুল সাহায্য। সাহায্য নিন। নিয়ে শেষ করুন নিজে। নিজে শেষ করাই মূল। মূল রাখুন হাতে। হাতে পোর্টালের রসিদ। রসিদ এলে খসড়া মুছে ফেলতে পারেন। পারেন, তবে সালের ফোল্ডার রাখুন। রাখা বুদ্ধি। বুদ্ধি ছোট। লাভ বড় যখন জরিমানা এড়ান। এড়ান। এড়াতে তারিখ কাটুন আজ। আজ কাটা কালি সস্তা। সস্তা কালি দামি শান্তি কেনে। কিনুন।