গেজেটের সংখ্যা আর পে-স্লিপ এক নয়
সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ অনেক সহকর্মী গেজেটের টেবিল দেখে বলছেন গ্রেড ১০ মানে বত্রিশ হাজার। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তখনও পুরনো ষোলো হাজারের ওপর কিস্তি উঠছে। দুটোই সত্যি, সময় আলাদা। পে-স্কেল ২০২৬ ক্যালকুলেটর খুললে ডিফল্টে জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০২৬-এর ড্রয়িং দেখায়, পূর্ণ ধাপ নয়। পিরিয়ড বদলে পূর্ণ বেসিকও দেখা যায়।
নবম জাতীয় পে-স্কেল অর্থ বিভাগের এসআরও ৩৪৭-আইন/২০২৬। প্রকাশ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, কার্যকর ১ জুলাই ২০২৬। বিশটা গ্রেড আছে। গ্রেড ১ স্থির এক লক্ষ ছাপ্পান্ন হাজার। গ্রেড ২০ শুরু বিশ হাজার, শেষ ধাপ আটচল্লিশ হাজার চারশ। ক্যাবিনেট সচিব আর সিনিয়র সচিব আলাদা স্থির পদ, গ্রেড টেবিলের বাইরে।
৩০ জুন ২০২৬-এর অষ্টম স্কেলের বেসিক ধরে বৃদ্ধি হিসাব হয়। জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬-এ গ্রেড ১ থেকে ৯ বৃদ্ধির চল্লিশ শতাংশ, গ্রেড ১০ থেকে ২০ বৃদ্ধির পঞ্চাশ শতাংশ। জানুয়ারি–জুন ২০২৭-এ সত্তর ও পঁচাত্তর শতাংশ। ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ নতুন বেসিক। নিজের বেসিক লিখলে কিস্তি এড়িয়ে পূর্ণ ধাপ ধরা হয়—সেটা পরীক্ষা, পে-ফিক্সেশন নয়।
গ্রেড ১০ শুরুর উদাহরণ সহজ। পুরনো ষোলো হাজার, পূর্ণ বত্রিশ হাজার, এখনকার কিস্তি পঞ্চাশ শতাংশ বৃদ্ধি—বেসিক চব্বিশ হাজার। গ্রেড ৯-এ চল্লিশ শতাংশ বৃদ্ধি। হোয়াটসঅ্যাপে পূর্ণ বত্রিশ হাজার ছড়ালে সহকর্মী সেই টাকা ধরে ঋণ পরিকল্পনা করেন। বলুন এখনকার বেসিক কিস্তি। জানুয়ারিতে আবার হিসাব খুলুন। জুলাই ২০২৭-এ পূর্ণ।
ইনক্রিমেন্ট পাঁচ শতাংশ গুণে মিলবে না
গেজেটের স্টেপ টেবিল আছে। গ্রেড ২ শুরু এক লক্ষ বত্রিশ হাজার। গ্রেড ৬ একাত্তর হাজার থেকে শুরু। গ্রেড ১১ পঁচিশ হাজার। নিজে পাঁচ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি করে সিলিং মিলবে না। কতবার ইনক্রিমেন্ট হয়েছে, সার্ভিস বই বা স্লিপ দেখে ধাপ বাছুন। অনুমানে শেষ ধাপ ধরবেন না।
বাড়ি ভাড়া আর উৎসব এখন পুরনো হারে। গেজেট বলে পুরনো ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ পর্যন্ত। বাড়ি ভাড়া ৫০/৪৫/৪০ শতাংশ, চিকিৎসা পুরনো টাকা, দুই উৎসব বেসিক, নববর্ষ বিশ শতাংশ। ক্যালকুলেটর সেই হারই দেখায়। নতুন চিকিৎসা বা টিফিন এখন লাগায় না। উৎসব ভাতা পাতা আলাদা করে বোনাস দেখায়। পে-স্কেল পাতার সঙ্গে গুলিয়ে এক নম্বর বানাবেন না।
ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়ি ভাড়া পঞ্চাশ শতাংশ। পৌরসভা ও ইউনিয়ন আলাদা। ক্যালকুলেটরে শহর টিক না দিলে ভাড়া কমবে। এটা বাসা ভাড়ার রসিদ নয়, স্কেলের সূত্র।
পুরনো পে-স্লিপ মিলাতে পে-স্কেল ২০১৫ খুলুন। দুই পাতার গ্রেড ১০ এক নয়। আয়কর অনুমানে বেসিক লাগলে যে স্কেল এখন স্লিপে, সেই পাতা থেকে নিন, তারপর আয়কর ২০২৫-২৬। ট্যাক্স পাতা পে-ফিক্সেশন করে না। বছরের মোট আয় চায়, এক মাসের স্ক্রিনশট নয়।
এই পরামর্শ কখন কাজে লাগে না
ইবাস++ আর পে-ফিক্সেশন মেমো এই টুল নয়। প্রমোশন, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড, ব্যক্তিগত বেতন—সাধারণ গ্রেড টেবিলের বাইরে। শিক্ষকদের পৃথক স্কেল, ব্যাংক বা কোম্পানির নিজস্ব স্কেল, প্রকল্পের কনসালট্যান্ট ফি এখানে নেই। জুলাই ২০২৭-এর পরও যদি অফিস কিস্তি চালায়, স্লিপ মানুন, ব্লগ নয়। সামরিক-বেসামরিক বিশেষ ভাতা মডেল নেই।
প্রমোশন হলে গ্রেড বদলায়, কিস্তির হিসাব জটিল হতে পারে। মেমো এলে স্লিপ মানুন। ক্যালকুলেটরের ড্রপডাউনে সব মামলা থাকে না। টুল চালিয়ে দাবি দাখিল করবেন না। হিসাব শাখায় মিলিয়ে নিন।
পেনশন আনুমানিক শেষ বেসিকে। অবসর কিস্তি সময়ে হলে পূর্ণ স্কেল ধরবেন না, যদি মেমো না দেয়। উৎসব কোন বেসিকে উঠবে, আদেশ দেখুন। স্ক্রিনশট সেপ্টেম্বরের কিস্তি দেখালে জুলাই ২০২৭-এ সেই ছবি ভুল। পিরিয়ড বদলে আবার হিসাব করুন। গেজেট সংশোধন হলে এই লেখা পুরনো হতে পারে।
এই পাতা অফিস বিল নয়, ইবাস লগইন নয়। সহকর্মীকে আপনার কিস্তি দেখিয়ে তাঁর ঋণ মাপবেন না। গ্রেড আর ধাপ আলাদা হতে পারে।
জুলাইয়ের স্লিপে যা আসে, জুলাইয়ের গেজেট যা বলে
নবম পে স্কেল গেজেট হয়েছে, কার্যকর এক জুলাই ২০২৬ থেকে। তবু জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬-এ অনেকে পুরো নতুন বেসিক পাবেন না। গ্রেড এক থেকে নয়ে বৃদ্ধির চল্লিশ শতাংশ, গ্রেড দশ থেকে বিশে পঞ্চাশ শতাংশ—এই ধাপে উঠবে, ত্রিশ জুন ২০২৬-এর পুরনো বেসিকের ওপর। জানুয়ারি–জুন ২০২৭-এ সত্তর আর পঁচাত্তর। পুরো নতুন বেসিক এক জুলাই ২০২৭ থেকে। পে স্কেল ২০২৬ ক্যালকুলেটর এই ধাপগুলো দেখায়। স্লিপ আর গেজেট মিলিয়ে পড়ুন। স্লিপ জিতবে দৈনন্দিন খরচে, গেজেট জিতবে নিয়মে।
অফিস সহকারীরা হোয়াটসঅ্যাপে এক্সেল পাঠাচ্ছেন। কেউ পুরো গ্রেড ওয়ানের এক লক্ষ ছাপ্পান্ন হাজার এখনই ধরছেন। কেউ ২০১৫ সালের ছক এখনো চালাচ্ছেন। দুই দিকই ভুল হতে পারে। গেজেটের ধাপ টেবিল আছে, পাঁচ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি নয়। ক্যালকুলেটরে গ্রেড আর ইনক্রিমেন্ট ধাপ বেছে পিরিয়ড দিন: এখন, ২০২৭-এর প্রথমার্ধ, না পূর্ণ। কাস্টম বেসিক দিলে ধাপ মাফ হতে পারে, সেটা বুঝে দিন।
বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব
পুরনো ভাতা—বাড়ি ভাড়া পঞ্চাশ/পঁয়তাল্লিশ/চল্লিশ, মেডিকেল, উৎসব দুই বেসিক, নববর্ষ বিশ শতাংশ—এক জানুয়ারি ২০২৮ পর্যন্ত আগের নিয়মে থাকার কথা, খবর অনুসারে। নতুন মেডিকেল-টিফিন এখনই লাগাবেন না টুলে যদি পাতা বলে এখনো চালু হয়নি। গুজবের স্ক্রিনশট থেকে ভাতা বাড়াবেন না। অফিসের অর্ডার এলে সেই সংখ্যা মিলিয়ে নিন। এই সাইট অর্থ বিভাগ নয়। ২০১৫ সালের পাতা পুরনো স্কেলের জন্য, ২০২৬ পাতা নতুন ছকের জন্য। দুইটা গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
ফিক্সেশন মেমো আলাদা জিনিস। ক্যালকুলেটর আনুমানিক। ইনক্রিমেন্ট তারিখ, পদায়ন, ব্যক্তিগত বেতন—এগুলো টুল জানে না। সহকর্মীর স্লিপ দেখে নিজেরটা অনুমান করবেন না। তাঁর গ্রেড অন্য, ধাপ অন্য। নিজের গ্রেড, নিজের ধাপ, নিজের পিরিয়ড। সংখ্যা খাতায় লিখুন কোন তারিখে কোন পিরিয়ড ধরে চালিয়েছেন। পরে স্লিপ এলে মিলিয়ে দেখুন। ফারাক থাকলে অ্যাকাউন্টসকে জিজ্ঞেস করুন, টুলের স্ক্রিনশট ধরে তর্ক নয়।
ক্যাবিনেট সচিব আর বিশ গ্রেড
ক্যাবিনেট ও প্রিন্সিপাল সচিব, সিনিয়র সচিব—আলাদা ফিক্সড। গ্রেড ওয়ান এক লক্ষ ছাপ্পান্ন হাজার ফিক্সড। গ্রেড বিশ শুরু বিশ হাজার, শেষ ধাপ আটচল্লিশ হাজার চারশ। এই সংখ্যা খবর ও গেজেট টেবিল থেকে নেওয়া। সার্কুলার বদলালে টুল পুরনো হতে পারে। পাতার তারিখ দেখুন। নিজের নিয়োগপত্রের গ্রেডই লিখুন। ফেসবুকের “আমার গ্রেড এগারো না বারো” তর্ক টুলে মিটবে না। অফিসের পদনাম আর গ্রেড মিলিয়ে নিন।
ফেজড উত্তোলন মানে এই নয় যে নতুন স্কেল নেই। স্কেল আছে, হাতে আসা টাকা ধাপে আসছে। কেউ ধাপ দেখে হতাশ হন, কেউ পূর্ণ বেসিক এখনই আশা করেন। দুই প্রত্যাশাই হিসাব নষ্ট করে। পরিবারকে বলার আগে পিরিয়ডটা বলে বলুন। “জুলাই থেকে পুরো দ্বিগুণ” বলে প্রতিশ্রুতি দিলে পরে অস্বস্তি। সংখ্যাটা টুল থেকে দেখিয়ে বলুন, এটা আনুমানিক, স্লিপ এলে পাকা। এই সতর্কতা সম্পর্ক বাঁচায়, শুধু হিসাব নয়।
সহকর্মীর এক্সেল আর নিজের গ্রেড
গ্রুপে এক্সেল আসে, গ্রেড ছয়ের ছক দিয়ে গ্রেড বারোর মানুষ হিসাব করেন। সংখ্যা সুন্দর, স্লিপ অন্য। নিজের গ্রেড, নিজের ধাপ, নিজের পিরিয়ড। এক্সেলের লেখক ভালো মানুষ হতে পারেন, আপনার ফাইল পড়েননি। টুলে নিজে বসান। ফারাক দেখলে অ্যাকাউন্টস। গ্রুপে তর্ক নয়। তর্কে সময় যায়, স্লিপ আসে না তাতে। পরিবারকে গ্রুপের সংখ্যা দেখাবেন না। নিজের খাতার সংখ্যা দেখান, আনুমানিক বলে। পূর্ণ আশ্বাস সহকর্মীর এক্সেল থেকে আসে না, অফিসের অর্ডার থেকে আসে। অর্ডার না এলে অপেক্ষা। টুল অপেক্ষার সময় অনুমান দেয়, অপেক্ষা শেষ করে না।