Blog · Sep 18, 2026

ঈদের বোনাস আর পহেলা বৈশাখের ২০ শতাংশ কীভাবে হিসাব করবেন

অফিস গ্রুপে যে গুণটা ঘুরে

ঈদের আগে হোয়াটসঅ্যাপে কেউ লেখেন দুই ঈদ দুই বেসিক, বৈশাখে বিশ শতাংশ। সরকারি ধাঁচের কর্মচারীর জন্য উৎসব ভাতা ক্যালকুলেটর সেই সূত্রে বার্ষিক অতিরিক্ত দেখায়। প্রাইভেট কোম্পানি এক বেসিক দিতে পারে, নাও দিতে পারে। চুক্তি আগে, টুল পরে।

বেসিক মানে স্কেলের বেসিক, গ্রস নয়। গ্রস দিয়ে গুণলে বোনাস ফুলে। বেসিক না জানলে পে-স্কেল ২০২৬ বা ২০১৫ থেকে গ্রেড ধরে আনুমানিক নিন, তারপর এই পাতায় বসান। কিস্তি সময়ে বেসিক কম। বোনাস কোন বেসিকে উঠবে, অফিস আদেশ দেখুন। কেউ পূর্ণ বত্রিশ হাজার ধরে আশা করেন, স্লিপে চব্বিশ হাজার—ফারাক বড়।

সরকারি ধাঁচে দুই উৎসব দুই বেসিক। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান উৎসব অফিসভেদে তারিখ। টুল ধর্ম বাছায় না, দুই বেসিক ধরে। তৃতীয় উৎসব থাকলে হাতে যোগ করুন, টুল বাড়ায় না। নববর্ষ বিশ শতাংশ। নবম স্কেলের নতুন হার এখন নাও চালু থাকতে পারে। ২০২৬ পে-স্কেল পাতা বলে পুরনো ভাতা ২০২৮ পর্যন্ত। দুই পাতার নোট একসঙ্গে পড়ুন।

ধরুন বেসিক চব্বিশ হাজার, আদেশ দুই বেসিক আর বিশ শতাংশ। দুই উৎসব আটচল্লিশ হাজার, নববর্ষ চার হাজার আটশ। বার্ষিক অতিরিক্ত বায়ান্ন হাজার আটশ। এটা মাসিক গ্রসের অতিরিক্ত, বারো মাস নয়। পে-স্কেল পাতা একই বেসিকে বাড়ি ভাড়া যোগ করে মাসিক গ্রস দেখায়। দুই পাতার মোট গুলিয়ে এক নম্বর বানাবেন না।

যা উৎসব ভাতা নয়

বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, টিফিন, ওভারটাইম উৎসব ভাতা নয়। পেনশনার বোনাস আলাদা আদেশ। চুক্তিভিত্তিক কর্মী “উৎসব ভাতা পাবেন” শুনে টুল চালালেও নিয়োগপত্র খালি থাকতে পারে। ইনসেনটিভ অন্য খাত। দৈনিক মজুরি ও প্রকল্প স্টাফ বাদ। ব্যাংক-বীমার নিজস্ব নীতি আলাদা।

আয়করের দিক থেকে বোনাস নগদ আয়। আয়কর পাতায় বার্ষিক অতিরিক্ত খাতে লিখুন। বেসিকের সঙ্গে বারো গুণ মেশাবেন না। হিসাব শাখায় জিজ্ঞেস কোন কোডে উঠবে।

ঈদের আগের মাসের স্লিপ আর বৈশাখের স্লিপ ভিন্ন হতে পারে। কোন স্লিপের বেসিক ধরবেন, আদেশ বলে। সহকর্মী গ্রস দিয়ে গুণলে ফুলে, বেসিক বলুন। হোয়াটসঅ্যাপে পূর্ণ স্কেলের বোনাস ছড়াবেন না কিস্তি সময়ে।

এই পরামর্শ কখন কাজে লাগে না

যে অফিস উৎসবের বদলে এককালীন ইনসেনটিভ দেয়, সেই খাত এই সূত্র নয়। সামরিক রেশন ও বিশেষ ভাতা নেই। ২০২৮-এর পর নতুন নববর্ষ হার চালু হলে এই লেখার বিশ শতাংশ পুরনো হতে পারে। এই টুল বেতন শাখার সফটওয়্যার নয়। আদেশ জিতবে। খাতায় আদেশ নম্বর, বেসিক আর ফল লিখে রাখুন।

ঈদের আগে অফিসে যে গুজব চলে

ঈদের আগে কেউ বলেন দুই বেসিক, কেউ বলেন গ্রস, কেউ বলেন নতুন পে স্কেলের পূর্ণ বেসিক এখনই। সরকারি অফিসে উৎসব ভাতা সাধারণত বেসিকের সঙ্গে tied, খবর ও প্রথা অনুসারে দুই ঈদে দুই বেসিকের মতো চলে আসছে অনেক স্থানে। নববর্ষে বিশ শতাংশ—এটিও পুরনো ভাতার খবর। বোনাস ক্যালকুলেটর খসড়া দেখায়। অফিসের আদেশ জিতবে। নতুন স্কেলের ধাপে বেসিক এখন পুরো নাও উঠতে পারে, তাই বোনাসও সেই উত্তোলিত বেসিকের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন, গেজেটের পূর্ণ গ্রেড ওয়ান এখনই ধরে নয়।

প্রাইভেট অফিসে বোনাস চুক্তি ও প্রথা। শ্রম আইন ও কোম্পানি পলিসি। সরকারি ছক প্রাইভেটে চাপিয়ে দেবেন না। নিয়োগপত্র পড়ুন। কেউ এক বেসিক দেন, কেউ দেন না। টুল সরকারি ধরনের হিসাব দেখাতে পারে, আপনার কোম্পানি অন্য। স্ক্রিনশট দিয়ে এইচআরকে চাপ দেবেন না। জিজ্ঞেস করুন, পলিসি চাই।

কোন বেসিক ধরবেন

জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬-এ ফেজড বেসিক। বোনাস কোন বেসিকের ওপর, সেটা অফিসের আদেশ। টুলে পুরো নতুন বেসিক দিলে বোনাস বড় দেখাবে, স্লিপে কম আসতে পারে। পে স্কেল ২০২৬ থেকে যে বেসিক এখন উঠছে সেটা ধরে খসড়া নিন, যদি আদেশ তাই বলে। আদেশ অন্য কিছু বললে সেই সংখ্যা লিখুন। টুল আদেশ পড়ে না।

নববর্ষের বিশ শতাংশ বেসিকের ওপর—প্রথা অনুসারে। নতুন সার্কুলারে পনেরো শতাংশের কথা উঠলেও কার্যকর তারিখ দেখুন। এক জানুয়ারি ২০২৮-এর আগে পুরনো ভাতা থাকার খবর আছে। গুজবে আগে ভাগে কমিয়ে বা বাড়িয়ে পরিবারকে বলবেন না। আদেশ এলে মিলিয়ে নিন। চিকিৎসা ভাতা বোনাসের সঙ্গে যোগ করবেন না যদি নিয়ম না থাকে। মানুষ গ্রস ধরে বড় সংখ্যা দেখতে ভালোবাসে। হিসাব সেই ভালোবাসা মানে না।

কন্ট্রাক্টual, দৈনিক, প্রজেক্ট স্টাফ—বোনাস নাও পারে। স্থায়ী সহকর্মীর স্লিপ দেখে আশা ভাঙবেন না। নিজের নিয়োগপত্র। পার্টটাইম, ইন্টার্ন—আলাদা। এই পাতা সব চাকরির গ্যারান্টি নয়। বেতনভুক্ত মাস কম হলে প্রথম ঈদে প্রোরেটা হতে পারে। টুল প্রোরেটা নাও জানে। অফিসকে জিজ্ঞেস করুন।

পরিবারকে যা বলবেন

সংখ্যাটা আনুমানিক বলুন, তারিখ বলুন কোন আদেশের অপেক্ষা। ঈদের বাজার সেই আনুমানিকের পুরোটা ধরে করবেন না, যদি স্লিপ না আসে। হাতে আসা টাকা স্লিপ। টুল রাতের হিসাব। দুইটা গুলিয়ে ঋণ করবেন না। ছোট সতর্কতা, বড় স্বস্তি। সহকর্মী গ্রুপে বড় সংখ্যা ছড়ালে সেটা তাঁদের গ্রেড, আপনার নয়। নিজের গ্রেড, নিজের বেসিক, নিজের আদেশ।

বাজারের তালিকা আর স্লিপের তারিখ

ঈদের বাজার বোনাস ধরে করলে স্লিপ দেরি হলে ঋণ বাড়ে। টুলের সংখ্যা দেখে তালিকা কাটুন, তালিকা বাড়াবেন না। বাচ্চারা খুশি হোক, ঋণ দিয়ে খুশি ঈদের পর কাঁদে। সহকর্মী নতুন স্কেলের পূর্ণ বেসিক ধরে বড় বোনাস বললে তাঁর গ্রেড ও আদেশ দেখুন, আপনার নাও হতে পারে। নববর্ষের বিশ শতাংশ আলাদা মাস। দুইটা যোগ করে ঈদের আগে খরচ করবেন না। মাস আলাদা, খরচ আলাদা। টুল দুইটা আলাদা দেখায় যদি দুইবার চালান। একবার চালিয়ে দুই উৎসব ধরবেন না। দুইবার চালান, দুই খাতা। খাতা ছোট, রাগ কম। রাগ বাড়ে যখন এক খাতায় সব আশা। আশা ভাগ করুন। আদেশ এলে খাতা বদলান। আদেশের আগে খাতা খসড়া। খসড়া ছেপে বিয়ের কার্ডে বোনাস লিখবেন না। কার্ডে শুভেচ্ছা লিখুন, সংখ্যা স্লিপে রাখুন। স্লিপ হাতে এলে বাজার। আগে বাজার, পরে স্লিপ—এই অভ্যাস ভাঙলে ঈদ শান্ত। শান্ত ঈদই বোনাসের কাজ। বড় তালিকা নয়। তালিকা ছোট হলেও বাড়ি শান্ত থাকুক। টুল সেই শান্তির সংখ্যা মাপে, শান্তি আপনি রাখেন নিজের প্রত্যাশা কমিয়ে। কমানো লজ্জা নয়, বুদ্ধি। বুদ্ধি খাতায়, গুজব গ্রুপে। গ্রুপ বন্ধ করে খাতা খুলুন রাতে। সকালে অফিসে আদেশ দেখুন। আদেশ না থাকলে অপেক্ষা। অপেক্ষাও হিসাব। হিসাব শুধু গুণ নয়, থামাও।

কন্ট্রাক্ট শেষের মাসে বোনাস আসে কি না চুক্তি বলে। চুক্তি না পড়ে সহকর্মীর স্লিপ দেখে আশা বাঁধবেন না। আশা ভাঙে। ভাঙতে না দিতে চুক্তি আজ পড়ুন। পড়ে টুলে সেই বেসিক দিন যেটা চুক্তি মানে। না মানে শূন্য। শূন্যও উত্তর। উত্তর জেনে বাজার করুন। বাজার শূন্যের ওপর নয়। নয় বলে পরিবারকে আগে বলুন। বলে রাখা কষ্ট একদিন, না বলে খরচ পরে কষ্ট মাস। মাস কষ্ট না চাইতে একদিনের কথা বলুন। কথা বলা টুল করে না। আপনি বলুন। বলে তারপর টুল দেখান যদি চান, আনুমানিক বলে। বলে খাতায় তারিখ। তারিখ আদেশের অপেক্ষা। অপেক্ষা শেষে আদেশ। আদেশ এলে টুল আবার। আবার না চালালে পুরনো খসড়া দিয়ে তর্ক। তর্ক বৃথা। বৃথা না করতে আদেশের দিন নতুন খাতা। নতুন খাতা ফ্রিজে নয়, ড্রয়ারে। ড্রয়ারে শান্তি। ফ্রিজে সনদ অন্য পাতার কথা। এই পাতায় বোনাস খসড়া। খসড়া ছোট রাখুন প্রত্যাশায়। ছোট প্রত্যাশা বড় স্বস্তি। স্বস্তি ঈদ। ঈদ চাইলে প্রত্যাশা কাটুন, তালিকা নয় সবসময়। তালিকা কাটা কষ্ট। প্রত্যাশা কাটা বুদ্ধি। বুদ্ধি খাতায় লিখুন এক লাইন: আদেশ আগে, বাজার পরে। লাইন মনে থাকলে গুজব দুর্বল। দুর্বল গুজবই চাই রাতে। রাতে গ্রুপ বন্ধ। বন্ধ গ্রুপ, খোলা খাতা। খাতায় টুলের সংখ্যা আনুমানিক। আনুমানিক লিখে ঘুমান। ঘুম বোনাসের আগেও দরকার। দরকার মিটিয়ে সকালে অফিস। অফিসে আদেশ। আদেশই শেষ কথা। টুল প্রথম কথা। প্রথম আর শেষ গুলিয়ে ফেলবেন না। না গুলিয়ে ঈদ শান্ত রাখুন।