পিসিতে ঠিক, ফোনে নষ্ট
গত সপ্তাহে মিরপুরের এক দোকানের পেজ অ্যাডমিন ফোন করে বললেন, ঈদের ছাড়ের পোস্ট দিয়েছেন, নিজের কম্পিউটারে দেখতে বাংলা, কাস্টমারের ফোনে ইংরেজি অক্ষরের মতো আজব লেখা। তিনি সবাইকে SutonnyMJ ইনস্টল করতে বলছিলেন। কেউ ইনস্টল করে না। করলেও ফেসবুক সেই ফন্ট নিয়ে যায় না।
আসল কথাটা সহজ। তিনি ওয়ার্ডে বিজয় কিবোর্ডে টাইপ করেছেন। বিজয় মানে পুরনো ANSI বাইট। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, জিমেইল, মোবাইল—এগুলো ইউনিকোড চায়। ফন্ট প্যাক পাঠিয়ে এনকোডিং বদলায় না। দর্শকের ফোনে আপনার উইন্ডোজ ফন্ট থাকে না। তাই পেস্ট করলে জাঙ্ক।
সমাধান একটাই। প্রিন্টের ফাইল বিজয়ে থাকুক। ফেসবুকের জন্য সেই লেখা বিজয় থেকে ইউনিকোড পাতায় একবার বদলান, তারপর পেস্ট করুন। উল্টো দিক চাপলে আরও খারাপ হয়। দুবার কনভার্ট করবেন না।
ফন্ট ইনস্টল করলেই হবে, এই ধারণাটা ভুল
অনেকে গ্রুপে লিখেন “বাংলা ফন্ট ইনস্টল করো”। ওয়েবসাইটে SutonnyMJ বসিয়েও ফেসবুক ঠিক হয় না। ফেসবুক আপনার সাইটের সিএসএস পড়ে না। ফন্ট গাইডে এই কারণটা খোলা আছে। ফন্ট লাইব্রেরি যে ফাইল ভাগ করা যায় শুধু সেগুলো দেয়। পাইরেট বিজয় প্যাক না, আর সেই প্যাক পেজের ক্যাপশনও বাঁচায় না।
একটা সহজ পরীক্ষা আছে। ফোনের জিমেইল খুলে সেই লেখা পেস্ট করুন। বাংলা থাকলে ইউনিকোড। জাঙ্ক হলে বিজয়, অথবা কেউ ভুল দিকে কনভার্ট করেছে। এই পরীক্ষা কনভার্টার নিয়ে তর্কের চেয়ে সস্তা।
সব জাঙ্ক অবশ্য বিজয় নয়। কেউ ইউনিকোড কপি করে ভুল ফন্টে দেখালেও ভাঙে। তিন-চার লাইন এনকোডিং ডিটেক্টরে দিলে বোঝা যায় ইউনিকোড, বিজয়, না মিশ্র। মিশ্র হলে পুরো পোস্ট এক ক্লিকে ঠিক হয় না। শিরোনাম আর বডি আলাদা করে দেখুন।
অফিসে দুই ফোল্ডার রাখুন
ডিজাইনার ইনডিজাইনে বিজয় ব্যবহার করতে পারেন। পেজ অ্যাডমিন ক্রোমে ইউনিকোড চালান। ম্যানেজার ওয়ার্ডে SutonnyMJ খুলে রাখেন। তিনজন তিন জায়গায় পেস্ট করলে প্রতি পোস্টে জাঙ্ক। একটা নিয়ম লিখে রাখুন। প্রিন্টের সোর্স এক ফোল্ডারে, সোশ্যালের সোর্স অন্য ফোল্ডারে। কেউ একে অপরের ফোল্ডার থেকে সরাসরি কপি করবেন না।
সকালে যদি শিরোনাম প্রিন্ট ডেস্ক থেকে আসে, সোশ্যাল টিম সেটা একবার ইউনিকোডে এনে পোস্ট বানায়। প্রিন্ট ফাইল অপরিবর্তিত থাকে। রিলসের টেক্সটও ইউনিকোড। স্টোরির ছবির ওপর বাংলা আঁকলে সেটা ছবি, পরে ক্যাপশন আলাদা ইউনিকোডে লিখুন।
শিডিউলার টুলে আগের দিন পেস্ট করে রাখলে রাতে পোস্ট হয়ে যায়। সেখানে বিজয় পেস্ট করলে সকালে দেখার আগেই জাঙ্ক ছড়ায়। শিডিউলের আগে নিজের ফোনে প্রিভিউ দেখুন। ফোনে বাংলা দেখালে দর্শকও দেখবে। আপনার পিসির ফন্ট নয়।
কমেন্ট আর বিজ্ঞাপন
দর্শক যদি জাঙ্ক কমেন্ট করেন, তাঁরাও বিজয় পেস্ট করছেন। উত্তরে ফন্টের জিপ দেবেন না। বলুন ইউনিকোডে লিখুন, অথবা অভ্র বা Gboard ব্যবহার করুন। নিজের রিপ্লাই ইউনিকোডে রাখুন। পেজের অটো রিপ্লাই পুরনো বিজয়ে সেভ থাকলে একবার ব্যাচে ইউনিকোড করে আবার সেভ করুন।
সব পুরনো পোস্ট এক রাতে বদলানোর দরকার নেই। পিন করা পোস্ট আর চলতি ক্যাম্পেইন আগে। গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট এডিট করে ইউনিকোড বসান। ডিলিট করলে পুরনো লিংক ভাঙে। স্প্যাম জাঙ্ক থাকলে ডিলিট করাই ভালো।
বিজ্ঞাপনের হেডলাইনে অক্ষরের সীমা আছে। ইংরেজি টুল বাংলা যুক্তাক্ষর ভুল গণে। আগে শব্দ গণক দিয়ে মাপুন, তারপর ম্যানেজারে বসান। দাম আরবি অঙ্কে রাখলে সার্চ চেনা যায়। ঠিকানা বাংলা ইউনিকোডে লিখুন। ইমোজি ইউনিকোডেই থাকে, বিজয় ম্যাপিং ইমোজি ছোঁয় না।
এই পরামর্শ কখন কাজে লাগে না
ছবির ভিতরের বাংলা—স্টোরি, ব্যানার, পিএনজি—টেক্সট নয়। সেটা কনভার্টার দিয়ে ঠিক হয় না। পুরো পেজ যদি আগে থেকে ইউনিকোডে চলে, এই কাজ নিত্যকর্ম নয়। শুধু পুরনো আর্কাইভ তোলার সময় লাগবে। কারো একটা পুরনো ফোনে শুধু তাঁর ফন্ট নষ্ট, বাকি দুনিয়ায় ঠিক থাকলে সেটা সেই ফোনের সমস্যা। মেসেঞ্জার বটের উত্তর যদি আগেই ইউনিকোডে থাকে, তাকে বিজয় ভেবে আবার কনভার্ট করবেন না। অ্যাকাউন্ট আটকলে সেটা ফেসবুকের নীতি, এনকোডিং নয়।
একটা কাজের উদাহরণ
একটা দৈনিকের প্রিন্ট ডেস্ক SutonnyMJ-এ শিরোনাম দেয়। সোশ্যাল টিম সেই শিরোনাম বিজয় থেকে ইউনিকোডে নিয়ে সিএমএসে পেস্ট করে। প্রিন্ট ফাইল যেমন ছিল তেমন থাকে। কেউ মেটা বিজনেস স্যুটে SutonnyMJ পেস্ট করে না।
স্কুলের পেজে রেজাল্ট নোটিশ। শিক্ষক ওয়ার্ডে বিজয় টাইপ করেছেন। পেজ অ্যাডমিন পুরো নোটিশ একবার কনভার্ট করেন। নামের তালিকায় যুক্তাক্ষরযুক্ত নাম আলাদা করে চোখ দিয়ে দেখেন। পুরো তালিকা দ্বিতীয়বার কনভার্ট করেন না। দশটা অক্ষর ভুল থাকলে শুধু সেই শব্দ হাতে ঠিক করেন।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে পুরনো নোটিশ তুলতে হলেও একই নিয়ম। চ্যানেল ইউনিকোড চায়। প্রেসের ফাইল আলাদা। নতুন অ্যাডমিনকে পাইরেট ফন্ট প্যাক দেবেন না। ডিটেক্টর আর বিজয়-টু-ইউনিকোডের লিংক দিলেই হয়।
এই সাইট ফেসবুকের অফিসিয়াল টুল নয়। এনকোডিং ঠিক থাকলেও নিয়মভাঙা পোস্ট আটকে যেতে পারে। কিন্তু জাঙ্ক পোস্ট যেন আর না যায়, সেটা আপনার হাতে।
আরেকটা ঘটনা, এবার রেস্তোরাঁর পেজ
ধানমন্ডির এক রেস্তোরাঁর ম্যানেজার রমজানে ইফতার মেনু দিয়েছিলেন। নিজের ল্যাপটপে দেখতে সুন্দর বাংলা। কাস্টমাররা কমেন্টে লিখছিলেন, “ভাই ইংরেজি না বাংলা লিখুন।” তিনি রাগ করে বলছিলেন, আমি তো বাংলাই লিখেছি। আসলে তিনি ওয়ার্ড থেকে কপি করেছিলেন, আর ওয়ার্ডে SutonnyMJ খোলা ছিল। ফেসবুক সেই বাইট পেল, ফন্ট পেল না। মেনু একবার বিজয় থেকে ইউনিকোডে এনে পোস্ট করলেই কমেন্ট থেমে গেল।
এই ভুলটা শহরেই হয় না। উপজেলার স্কুল, কোচিং, ফার্মেসি পেজ—সবখানেই একই গল্প। কেউ ফন্টের জিপ গ্রুপে ছড়ান। কেউ বলেন ক্রোম আপডেট করো। কেউ বলেন ফোন রিস্টার্ট করো। এগুলো সময় নষ্ট। দর্শকের ফোনে আপনার উইন্ডোজ ফন্ট থাকবে না, এটা ধরে নিন।
আমার পরিচিত এক ফটোগ্রাফার ওয়েডিং অ্যালবামের ক্যাপশন বিজয়ে লিখে পেজে দিতেন। নিজের পিসিতে দেখতেন বাংলা, ক্লায়েন্টের ফোনে দেখতেন আজব হরফ। ক্লায়েন্ট ভাবতেন ফটোগ্রাফার ইংরেজিতে নাম ভুল লিখেছেন। সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আগে তিনি ডিটেক্টর চালিয়ে বুঝলেন লেখাটা বিজয়। তারপর থেকে ক্যাপশন আলাদা খাতায় ইউনিকোডে রাখেন। অ্যালবাম প্রিন্ট আগের মতো বিজয়েই থাকে। দুই কাজ দুই ফাইল। এই নিয়মটাই বাঁচায়।
শিডিউল টুল আর মোবাইল অ্যাপ
অনেকে Meta Business Suite বা Buffer-এ আগের রাতে পোস্ট সেভ করেন। সেখানে বিজয় পেস্ট করলে রাতেই জাঙ্ক ছড়ায়। সকালে ঘুম ভাঙার আগে শহর দেখে ফেলে। শিডিউলের আগে নিজের ফোনে প্রিভিউ দেখুন। ফোনে বাংলা দেখালে দর্শকও দেখবে। আপনার পিসির ফন্ট নয়, ফোনের ইউনিকোড।
ফেসবুক অ্যাপে লম্বা পোস্ট টাইপ করলে মাঝে মাঝে কিবোর্ড বদলে ইংরেজি হয়ে যায়। সেটা এনকোডিংয়ের সমস্যা নয়, কিবোর্ডের। Gboard বা অভ্র কিবোর্ডে ফিরে এসে লিখুন। বিজয় কিবোর্ড ফোনের অ্যাপে সাধারণত থাকে না। তাই ফোন থেকে লিখলে বেশিরভাগ সময় ইউনিকোডই হয়। সমস্যা হয় যখন কেউ পিসির ওয়ার্ড থেকে কপি করে অ্যাপে পেস্ট করেন।
পেজের “saved replies” বা অটো উত্তর পুরনো বিজয়ে সেভ থাকলে প্রতি কমেন্টে জাঙ্ক যায়। একবার ব্যাচে ইউনিকোড করে আবার সেভ করুন। এটা এক ঘণ্টার কাজ, প্রতিদিনের নয়। নতুন অ্যাডমিন যোগ করলে তাঁকে বলুন পিসির ওয়ার্ড থেকে সরাসরি পেস্ট করবেন না। পেজের নিয়ম এক লাইনে লিখে রাখুন: সোশ্যালে শুধু ইউনিকোড।
কেন মানুষ ফন্ট ইনস্টল করতে বলে
বিজয় যুগে কম্পিউটারে ফন্ট না থাকলে বাংলা দেখা যেত না। সেই অভ্যাস এখনো আছে। গ্রুপে কেউ জাঙ্ক দেখলেই বলে “ফন্ট দাও”। ওয়েবে সেই কথা আর খাটে না। ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ নিজের ফন্ট নিয়ে চলে। আপনি SutonnyMJ ইনস্টল করলে শুধু আপনার পিসি বদলায়, দর্শকের ফোন নয়। ফন্ট লাইব্রেরি তাই সোশ্যাল ক্যাপশন বাঁচায় না। প্রিন্ট আর পোস্টারের জন্য ফন্ট লাগে। পোস্টের জন্য এনকোডিং লাগে। দুটো গুলিয়ে ফেললে রাত নষ্ট।
কেউ কেউ ওয়েবসাইটে CSS দিয়ে SutonnyMJ বসান। নিজের সাইটে হয়তো দেখায়। ফেসবুকে সেই CSS যায় না। শেয়ার করলে আবার জাঙ্ক। সাইটের টেক্সট ইউনিকোডে রাখুন, ফন্ট হিসেবে নোটো সানস বেঙ্গলি বা সোলায়মানলিপি দিন। প্রিন্ট পিডিএফ আলাদা রাখুন।
পুরনো পোস্ট এডিট করতে গিয়ে কেউ আবার ভুল দিকে কনভার্ট করেন। ইউনিকোড পোস্টকে বিজয় ভেবে বদলালে আরও খারাপ হয়। এডিটের আগে তিন-চার লাইন ডিটেক্টরে দিন। ইউনিকোড বললে ছুঁবেন না। বিজয় বললে একবারই বদলান। মিশ্র বললে শিরোনাম আর বডি আলাদা করুন। এই অভ্যাসটা এক সপ্তাহে গড়ে ওঠে, তারপর আর ভাবা লাগে না।
ছবির ওপর লেখা আলাদা কথা। ক্যানভা বা ফটোশপে বাংলা আঁকলে সেটা পিক্সেল। কনভার্টার সেই ছবি পড়ে না। ছবি ঠিক থাকলেও নিচের ক্যাপশন জাঙ্ক হতে পারে। ক্যাপশন আলাদা ইউনিকোডে লিখুন। রিলসের স্ক্রিন টেক্সটও ছবি। ভিডিওর বর্ণনা ঘরে ইউনিকোড দিন। এই ফারাকটা মাথায় রাখলে অর্ধেক সমস্যা কমে।