দুই হাজার শব্দ, সফটওয়্যারে অন্য ফল
শিক্ষক বললেন আটশ শব্দ। শিক্ষার্থী মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে কাউন্ট দেখে জমা দিলেন। বাংলায় ওয়ার্ড কখনো স্পেস ধরে, কখনো অক্ষর, কখনো লাইন। বাংলা শব্দ গণক স্পেস দিয়ে শব্দ, ক্যারেক্টার, বাক্য আর আনুমানিক পড়ার সময় দেখায়। শিক্ষক কোন মেট্রিক চান, সেটা প্রশ্নপত্রে। জিজ্ঞেস না করে জমা দিলে কেটে দিতে পারেন।
যুক্তাক্ষর একটি শব্দের ভিতরে। স্পেস না থাকলে এক শব্দ। ইংরেজি টুল বাংলা দাঁড়ি ও প্রশ্নবোধক ভুল ভাগ করতে পারে। গণকে পেস্ট করে শব্দ আর ক্যারেক্টার দুটোই দেখুন। যুক্তাক্ষর ভেঙে গণনা বাড়াবেন না। সেটা চালাকি, রচনার মান নয়।
শিরোনাম, তথ্যসূত্র, ছক—শিক্ষক বাদ দিতে পারেন। টুল পুরো পেস্ট গণে। জমা দেওয়ার আগে শুধু বডি পেস্ট করুন যদি সীমা শুধু বডিতে হয়। পাদটীকা বাদ দিতে হলে বাদ দিয়ে পেস্ট। দুই শিক্ষকের দুই মেট্রিক হতে পারে। আলাদা করে গণুন।
ইংরেজি উদ্ধৃতি লম্বা হলে বাংলা সীমায় জায়গা কমে। সীমা বাংলায় হলে উদ্ধৃতি ছাঁটুন। ফেসবুক ক্যাপশনের অক্ষর সীমা আলাদা প্ল্যাটফর্ম গণে। গণকের ক্যারেক্টার আর প্ল্যাটফর্মের সীমা মিলিয়ে কাটুন, অর্থ রেখে।
বিজয় টেক্সট ইউনিকোড বক্সে পেস্ট করলে জাঙ্ক শব্দ গণে। আগে ডিটেক্টর, দরকারে বিজয় থেকে ইউনিকোড, তারপর গণক। লুকোনো অক্ষর শব্দ বাড়ায়। ক্লিনার আগে চালান, পরে আবার গণক। ক্লিনারের পর সংখ্যা কমে গেলে অবাক হবেন না, ময়লা সরছে।
সীমা বেশি হলে একটি উদাহরণ কাটুন। কম হলে একটি বাস্তব উদাহরণ যোগ করুন। কিওয়ার্ড পুনরাবৃত্তি করে সীমা ভরা রচনা নষ্ট করে। জমা রাতে গণক আর ওয়ার্ড দুটো খাতায় লিখুন। সকালে ক্লিনার চালিয়ে থাকলে আবার গণক।
ক্লাসরুম গুগল ডক হলে এনকোডিং ইউনিকোড রাখুন। ফাইল নামে শব্দসংখ্যা লিখে শিক্ষককে বাধ্য করবেন না। তিনি নিজে গণতে পারেন। সহপাঠীর কাউন্ট বাংলায় ভিন্ন হতে পারে, তাঁর শিরোনাম-ছক আলাদা।
এই পরামর্শ কখন কাজে লাগে না
পরীক্ষার হলে ওয়েব গণক খোলা নিষেধ থাকতে পারে, আগে মাপুন। জার্নালের ওয়ার্ড কাউন্ট ইংরেজি নিয়ম, এই গণক সেই জার্নাল নয়। হাতে লেখা খাতার লাইন এই টুল নয়। জেএসসি উত্তরপত্রের পৃষ্ঠা সীমা আলাদা। এই গণক শিক্ষকের রুব্রিক নয়। সীমার সংজ্ঞা প্রশ্নপত্রে। রাত দুটোয় কিওয়ার্ডের লাইন জুড়ে সীমা ভরবেন না।
ওয়ার্ড বলে আটশো, শিক্ষক বলেন কম
অ্যাসাইনমেন্টে লেখা আছে আটশো শব্দ। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড অন্য সংখ্যা দেখায়, গুগল ডক অন্য, শব্দ গণক অন্য। শিক্ষক যে টুল বলেন, সেটাই জিতবে। এই পাতা আপনার খসড়া মাপার জন্য। বাংলায় যুক্তাক্ষর, দাঁড়ি, ইংরেজি শব্দ মেশালে গণনা আলাদা হতে পারে। স্পেস দিয়ে ভাগ করা শব্দ আর উইন্ডোজের ওয়ার্ড কাউন্ট এক নয় সবসময়। তাই সীমার কাছাকাছি থাকলে দশ-বিশ শব্দ বাফার রাখুন। ঠিক আটশোতে থামবেন না যদি শিক্ষকের টুল বেশি গণে।
কেউ পাদটীকা যোগ করে সংখ্যা বাড়ান, কেউ শিরোনাম বাদ দেন। নির্দেশ পড়ুন কী গণবে। রেফারেন্স তালিকা বাদ কি না। ছবির ক্যাপশন বাদ কি না। টুল পুরো পেস্ট গণে। যা গণতে চান না, পেস্টের আগে বাদ দিন। হিডেন ক্যারেক্টার থাকলে সংখ্যা ফুলে ওঠে। সন্দেহ হলে টেক্সট ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করে আবার গণুন। ওয়ার্ডে সার্চ না হওয়ার সমস্যাও প্রায়ই লুকানো অক্ষর থেকে। দুই পাতা দুই কাজ: ক্লিনার পরিষ্কার করে, গণক মাপে।
বাংলা আর ইংরেজি মিশ্র অ্যাসাইনমেন্ট
ইংরেজি অ্যাবস্ট্রাক্ট আর বাংলা বডি এক ফাইলে। শিক্ষক শুধু বাংলা বডি চাইতে পারেন। আলাদা করে পেস্ট করুন গণকে। পুরো ফাইল দিলে ইংরেজি শব্দও গণবে। উদ্ধৃতি দীর্ঘ হলে শব্দ বেড়ে যায়, নির্দেশে উদ্ধৃতি সীমা থাকতে পারে। টুল উদ্ধৃতি চিনে বাদ দেয় না। নিজে বাদ দিন। জিপিএ বা নম্বর শব্দ গণনায় আসে না, আলাদা হিসাব জিপিএ। ভর্তি রচনা আর ক্লাস অ্যাসাইনমেন্ট দুই সীমা। ফর্মের বক্সে অক্ষর সীমা শব্দ সীমা নয়। অক্ষর গণনা পাতায় থাকলে সেটা বাছুন, শব্দ গণনার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না।
ফেসবুক বিজ্ঞাপনের হেডলাইন অক্ষর সীমা। বাংলা যুক্তাক্ষর ইংরেজি টুল ভুল গণে। আগে এই গণক, তারপর ম্যানেজারে বসান। অতিরিক্ত কাটবে ম্যানেজার, আপনার অর্থ কাটবে না যদি আগে মাপেন। প্রেস বিজয় ফাইলের শব্দ গণতে হলে আগে ইউনিকোডে আনুন, নাহলে জাঙ্ক শব্দ গণবে। সোশ্যাল ক্যাপশন ইউনিকোডে গণুন। দুই এনকোডিং মেশালে সংখ্যা অর্থহীন।
জমা দেওয়ার আগে শিক্ষকের পোর্টালে পেস্ট করে দেখুন সংখ্যা কী বলে। পোর্টাল জিতবে। টুল বাসায় প্রস্তুতি। পোর্টাল কম গণলে আরও লিখুন, বেশি গণলে কাটুন। রাত দুটোয় টুলের সংখ্যা দেখে নিশ্চিন্ত হয়ে জমা দিয়ে সকালে ফেল—এই গল্প অনেকের। পোর্টালের কাউন্টার আগে খুলুন, শেষ রাতে নয়। শব্দ সীমা পূরণ করতে একই বাক্য তিনবার লিখবেন না। শিক্ষক পড়েন। টুল গণে, মান গণে না। মান আপনার লেখা। সংখ্যা শুধু দরজা। দরজা পেরোলেই নম্বর নয়, পড়াশোনা তখন শুরু।
পোর্টালের কাউন্টার শেষ রাতে খুলবেন না
পোর্টাল বলে সাতশো, টুল বলে আটশো। রাত দুটোয় জমা, কাটার সময় নেই। তাই পোর্টাল আগে খুলুন যখন সময় আছে। টুল বাসায় লিখতে সাহায্য করে। জমা পোর্টালে। পোর্টাল কম গণলে লিখুন, বেশি গণলে কাটুন। কাটতে গিয়ে অর্থ কাটবেন না, বাড়তি উদাহরণ কাটুন। একই বাক্য তিনবার লিখে সংখ্যা পূরণ শিক্ষক ধরেন। ধরেন বলে নম্বর কমে। সংখ্যা পূর্ণ, মান খালি—এই ফাঁদ। টুল ফাঁদ গণে না। আপনি গণবেন মান। মান রাখতে আগে লিখুন, পরে মাপুন, তারপর পোর্টাল। উল্টো ক্রমে পোর্টাল ভয়, তারপর তাড়া, তারপর ফাঁদ। ফাঁদ এড়াতে ক্রম। হিডেন অক্ষর থাকলে পোর্টাল ফুলতে পারে বা কমতে পারে অদ্ভুতভাবে। ক্লিনার আগে। গণক পরে। পোর্টাল শেষ। তিন ধাপ। দুই মিনিট। দুই মিনিট না দিয়ে ফেলের ঝুঁকি। ঝুঁকি না নিতে মিনিট দিন। শিক্ষক যে টুল বলেন সেটাই মিলিয়ে রাখুন বুকমার্কে। এই সাইটের গণক দ্বিতীয় মতামত। প্রথম মতামত শিক্ষকের। শিক্ষকের কথা কাটা যায় না গণক দিয়ে। গণক দিয়ে নিজের খসড়া কাটা যায়। কাটুন নিজের, শিক্ষকের নিয়ম নয়। নিয়ম পড়ে লিখুন। লিখে মাপুন। মেপে জমা দিন। জমা দিয়ে ঘুমান। ঘুমই ভালো অ্যাসাইনমেন্টের শেষ অধ্যায়। টুল সেই ঘুমের আগের মাপকাঠি। মাপকাঠি বিছানা নয়। বিছানায় টুল নিয়ে যাবেন না। টেবিলে মাপুন, বিছানায় শোন। শোয়ার আগে পোর্টাল। পোর্টাল সবুজ, তারপর শোয়া। লাল দেখে শোয়া—সকালে অনুশোচনা। অনুশোচনা না চাইলে সবুজ দেখে শোন।
রেফারেন্স তালিকা আলাদা ফাইলে রাখুন যদি শিক্ষক বডি গণেন। বডিতে রেফারেন্স মেশালে সংখ্যা ফোলে, পোর্টাল কাটে অন্য জায়গায়। অন্য জায়গায় কাটা অর্থ কাটে। অর্থ না কাটতে ফাইল ভাগ। ভাগ করে বডি গণকে দিন। দিন শুধু যা গণতে হবে। হবে না যা বাদ। বাদ দেওয়া শৃঙ্খলা। শৃঙ্খলা নম্বর বাড়ায় কখনো, কমায় না যদি নির্দেশ মানা হয়। মানা নির্দেশই প্রথম গণক। দ্বিতীয় এই টুল। তৃতীয় পোর্টাল। তিনজনের ভোট পোর্টালের। পোর্টালকে রাগিয়ে টুল দেখাবেন না স্ক্রিনশট দিয়ে। দিয়ে তর্ক বৃথা। বৃথা না করতে পোর্টালের সংখ্যা মেনে কাটুন বা লিখুন। লিখে মান রাখুন। মান কাটা যায় না গণক দিয়ে। গণক শব্দ কাটে। শব্দ কাটতে উদাহরণ বাদ দিন, মূল যুক্তি নয়। নয় বলে পড়ে কাটুন, তাড়ায় নয়। তাড়ায় মূল উড়ে যায়। যায় বলে দুপুরে মাপুন। মাপে সময় থাকলে কাটা শান্ত। শান্ত কাটা ভালো পেপার। পেপার জমা দিয়ে গণক বন্ধ। বন্ধ করে পোর্টাল সবুজ দেখুন। দেখে ঘুমান। ঘুম অ্যাসাইনমেন্টের শেষ শব্দ নয়, শেষ কাজ। কাজ শেষে টুল দরকার হয় না। না হওয়াই সাফল্য। সাফল্য ছোট: সবুজ বোতাম। বোতাম দেখে খুশি হোন। খুশি থেকে কালকের খাতা। খাতা আজ বন্ধ। বন্ধ খাতা শান্ত মাথা। মাথা শান্ত থাকলে লেখাও ভালো হয় পরের বার। বার বার টুল নয়, মাঝে মাঝে মাথা। মাথা দিয়ে লিখুন। টুল দিয়ে মাপুন। মাপা শেষে জমা। জমা শেষে বিশ্রাম। বিশ্রাম নিন। শব্দগুলো এখন শিক্ষকের। শিক্ষক পড়বেন। আপনি শোন। শোয়ার অধিকার জমার পর। পরের আগে নয়। আগে জাগুক। জেগে মাপুন। মেপে জমা দিন। দিয়ে শোন।