চেকের লাইনে যা ভুল হয়
কিছু ফর্মে বাংলা অঙ্ক চায়। চেকে সাধারণত ইংরেজি অঙ্ক আর কথায় টাকা। কেউ পুরো চেক বাংলা অঙ্কে ছাপিয়ে ব্যাংকে ফেরত পান। বাংলা সংখ্যা রূপান্তর আরবি অঙ্ক থেকে বাংলা অঙ্ক, আবার অঙ্ক থেকে কথায় খসড়া দেয়। ব্যাংকের নিজস্ব বানান—“মাত্র”, “অঙ্ক”, “পয়সা”—টুল থেকে ভিন্ন হতে পারে।
টাকা কথায় লেখার পর খালি জায়গা কাটা, “মাত্র” যোগ—এগুলো ব্যাংক প্রথা, টুল করে না। টুল শুধু রূপান্তর। চেক হাতে শেষ করুন। দুইবার অঙ্ক আর কথায় মিলিয়ে স্বাক্ষর দিন।
স্কুল খাতায় বাংলা অঙ্ক, এক্সেলে ইংরেজি অঙ্ক, পে-স্লিপে ইংরেজি অঙ্ক। সরকারি বাংলা ফর্ম বাংলা অঙ্ক চাইতে পারে। ফর্মের নির্দেশ পড়ে রূপান্তর করুন। সব জায়গায় বাংলা অঙ্ক নয়। পাসপোর্ট নম্বর বা অ্যাকাউন্ট নম্বর বাংলা অঙ্কে লিখবেন না।
কথায় লেখা বড় সংখ্যায় বাংলাদেশে “কোটি” “লক্ষ” চলে। ভারতীয় “লাখ” বানান মিশিয়ে বিভ্রান্ত করবেন না, যদি অফিস “লক্ষ” চায়। টুল যে বানান দেয়, নমুনা চেকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। “পনেরো” আর “পনের” নিয়ে ব্যাংক ফেরত দিতে পারে।
বাংলা অঙ্ক ইউনিকোড। বিজয় ফর্মে পেস্ট করলে অঙ্ক ভুল ফন্টে দেখাবে। ফর্ম বিজয় হলে পরে ইউনিকোড থেকে বিজয়। ইউনিকোড পোর্টালে কনভার্ট ছাড়া পেস্ট। সন্দেহে ডিটেক্টর।
ভ্যাট আর টিডিএস ইংরেজি অঙ্কে হিসাব করুন। বাংলা অঙ্কে ভ্যাট গুণবেন না। আগে ইংরেজি অঙ্কে হিসাব, দরকারে পরে রূপান্তর। খুচরা দাম বাংলা অঙ্কে দেখিয়ে আবার পনেরো শতাংশ গুণলে হিসাব নষ্ট।
ধরুন চেকে পনেরো হাজার টাকা। অঙ্ক ইংরেজি, কথায় ব্যাংকের নমুনা বানান, খালি জায়গা কাটা, তারিখ গ্রেগরিয়ান, পয়সা, স্বাক্ষর। গত মাসের ফেরত চেক খাতায় কোন বানান ভুল ছিল, সেটা নমুনা করুন। টুল সেই নমুনা নিজে বদলায় না, আপনি হাতে মিলান।
এই পরামর্শ কখন কাজে লাগে না
ব্যাংক সফটওয়্যারের মাইক্রো চেক এনকোডিং, সিআরএম অঙ্ক, ইনভয়েস সফটওয়্যারের নিজস্ব ফরম্যাট এই টুল নয়। রোমান সংখ্যা, হিজরি বছরের অঙ্ক আলাদা। আদালতের নির্দিষ্ট বানান আলাদা হতে পারে। এই সাইট বাংলাদেশ ব্যাংক নয়। চেক ফেরত হলে কারণ ব্যাংক বলে। কমা আর স্পেস ব্যাংকের নিয়মে, টুলের স্পেস হুবহু নয়। পয়সা শূন্য হলেও কথায় শূন্য পয়সা লিখতে ব্যাংক চাইতে পারে। সহকর্মী গ্রস বাংলা অঙ্কে গুণতে গেলে আগে ইংরেজি অঙ্কে আনুন।
চেক ফেরত আসার সাধারণ কারণ
কেউ পুরো চেক বাংলা অঙ্কে ছাপেন, ব্যাংক ফেরত দেয়। কেউ কথায় টাকা লিখে খালি জায়গা না কেটে রাখেন। কেউ “মাত্র” বাদ দেন, কেউ পয়সার বানান টুল থেকে নিয়ে ব্যাংকের নমুনার সঙ্গে মেলে না। বাংলা সংখ্যা অঙ্ক থেকে বাংলা অঙ্ক, অঙ্ক থেকে কথায় খসড়া দেয়। চেক ছাপায় না। ব্যাংকের প্রথা হাতে শেষ করুন। দুইবার অঙ্ক আর কথায় মিলিয়ে স্বাক্ষর দিন। টাকা কথায় লেখার পর খালি জায়গা কাটা—টুল করে না।
স্কুল খাতায় বাংলা অঙ্ক চায় শিক্ষক। এক্সেল ইংরেজি অঙ্ক চায়। পে-স্লিপ ইংরেজি অঙ্ক। সরকারি কিছু বাংলা ফর্ম বাংলা অঙ্ক চায়। ফর্মের নির্দেশ পড়ে রূপান্তর করুন। পাসপোর্ট নম্বর, অ্যাকাউন্ট নম্বর, মোবাইল নম্বর বাংলা অঙ্কে লিখবেন না। সার্চ ও মেশিন পাঠ নষ্ট হয়। কথায় বড় সংখ্যায় বাংলাদেশে কোটি ও লক্ষ। ভারতীয় লাখ বানান মেশাবেন না যদি অফিস লক্ষ চায়। পনেরো আর পনের নিয়ে ব্যাংক তর্ক করতে পারে। নমুনা চেকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন, টুল জিতবে না সেখানে।
এনকোডিং আর অঙ্ক
বাংলা অঙ্ক ইউনিকোড। বিজয় ফর্মে পেস্ট করলে অঙ্ক ভুল ফন্টে দেখায়। ফর্ম বিজয় হলে পরে ইউনিকোড থেকে বিজয়। ইউনিকোড পোর্টালে সরাসরি পেস্ট। সন্দেহে ডিটেক্টর। শুধু অঙ্ক বদলে বডি অন্য এনকোডিং রাখবেন না। মিশ্র ফাইল এক ক্লিকে ঠিক হয় না। ইনভয়েসে আরবি অঙ্ক রাখলে হিসাব সফটওয়্যার খুশি। সাজসজ্জায় বাংলা অঙ্ক রাখা যায়। দুইটা এক সেলে মেশাবেন না এক্সেলে। এক্সেল বাংলা অঙ্ক গুণতে নাও পারে। হিসাবের শিট ইংরেজি অঙ্ক, প্রিন্টের ব্যানার বাংলা অঙ্ক—দুই ফাইল।
কথায় লেখা চেক ইংরেজিতেও হয়, ব্যাংক অনুসারে। বাংলা কথায় চাইলে টুলের খসড়া নিন, তারপর ব্যাংকের বানান। “টাকা মাত্র” বসানো, লাইনের শেষ কাটা—হাতে। পয়সা শূন্য হলে কী লিখবেন, নমুনা দেখুন। টুল শূন্য পয়সা অন্যভাবে লিখতে পারে। ছোট ফারাক, বড় ফেরত। তাই খসড়া, তারপর নমুনা, তারপর কালি। কালি শুকানোর আগে ফোন দিয়ে ছবি তুলে মিলিয়ে দেখুন অঙ্ক আর কথা। এই দুই সেকেন্ড অনেক চেক বাঁচায়।
অফিসের সিলের ভিতর বাংলা অঙ্ক থাকলে সেটা ছবি, কনভার্টার ছুঁয় না। ফর্ম ফিল্ডে টাইপ করা অঙ্ক টেক্সট। দুইটা আলাদা। ওয়েব ফর্মে বাংলা অঙ্ক দিয়ে সাবমিট করলে সার্ভার নাও নিতে পারে। নির্দেশ ইংরেজি ডিজিট বললে ইংরেজি দিন। জোর করে বাংলা অঙ্ক দিয়ে ফর্ম আটকাবেন না। টুল সাহায্য করে যেখানে বাংলা অঙ্ক চাওয়া হয়েছে, যেখানে চাওয়া হয়নি সেখানে নয়। এই সীমা মনে থাকলে অঙ্ক নিয়ে রাত নষ্ট কমে।
স্কুলের খাতা আর ব্যাংকের চেক এক নয়
শিক্ষক বাংলা অঙ্ক চান খাতায়। ব্যাংক ইংরেজি অঙ্ক চান চেকে। বাচ্চা খাতার অভ্যাসে চেক ভরে বাংলা অঙ্কে। বাবা ফেরত পান। বাচ্চাকে রাগ নয়, জায়গা বুঝিয়ে দিন। খাতা এক নিয়ম, চেক অন্য। টুল দুই দিক করতে পারে, জায়গা আপনি বাছবেন। ফর্ম বলে দিলে সেই অঙ্ক। না বললে হিসাবের জায়গায় ইংরেজি অঙ্ক নিরাপদ বেশি জায়গায়। সাজসজ্জায় বাংলা অঙ্ক। সাজসজ্জা হিসাব নয়। হিসাব এক্সেল, এক্সেল ইংরেজি অঙ্ক। ব্যানার ফটোশপ, সেখানে বাংলা অঙ্ক সুন্দর। দুই ফাইল। এক সেলে দুই রকম অঙ্ক মেশাবেন না। মেশালে গুণতে গিয়ে শূন্য। শূন্য দেখে রাত জাগা। রাত না জাগাতে ফাইল আলাদা। টুল সেই আলাদা ফাইলের খসড়া দেয়। খসড়া ছেপে চেক বানাবেন না সরাসরি যদি বানান না মেলে। মিলিয়ে, তারপর কালি। কালি শুকাক, তারপর ছবি, তারপর জমা। জমা আগে, মিল পরে—ফেরত। মিল আগে। ফেরতের লাইন লম্বা। লাইন এড়াতে খসড়া। খসড়া সস্তা, ফেরত দামি। সস্তা বেছে নিন। দামি চেক নয়, দামি সময়। সময় বাঁচাতে টুল, টুল বাঁচাতে চোখ। চোখ খোলা রাখুন স্বাক্ষরের আগে। স্বাক্ষরের পর চোখ খুললে দেরি। দেরি না করতে আগে দেখুন। আগে দেখাই এই পাতার শেষ কথা প্রায়। বাকি কথা ব্যাংকের। ব্যাংকের কথা মানুন। টুল নম্র খসড়া। নম্রতা রাখুন চেকের টেবিলে।
মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর বাংলা অঙ্কে লিখলে অ্যাপ নাও চিনবে। অ্যাপ ইংরেজি অঙ্ক চায় বেশিরভাগ। চায় বলে ফর্মের নির্দেশ পড়ুন অঙ্ক বদলানোর আগে। আগে পড়া, পরে টুল। পরে পড়া ফর্ম আটকায়। আটকানো সময়। সময় বাঁচাতে নির্দেশ। নির্দেশ ইংরেজি ডিজিট বললে টুল বন্ধ রাখুন সেই ঘরে। ঘরে বাংলা অঙ্ক সাজসজ্জায় রাখুন ব্যানারে। ব্যানার আর ফর্ম আলাদা। আলাদা রাখলে অ্যাপ খুশি, ব্যানার সুন্দর। সুন্দর আর খুশি দুই চাইলে দুই ফাইল। এক ফাইলে জোর করে দুই অঙ্ক মেশাবেন না। মেশালে এক্সেল শূন্য দেয় কখনো। শূন্য দেখে রাত জাগা বন্ধ করতে ফাইল ভাগ করুন আজ। আজ ভাগ করা কালকের ঘুম। ঘুম চাইলে ভাগ। ভাগ করে চেকের খসড়া টুল থেকে নিন, নমুনা মিলিয়ে কালি। কালি শুকাক। শুকিয়ে ছবি। ছবি দেখে জমা। জমা শেষে খসড়া ফেলে দিতে পারেন, চেকের কপি রাখুন। রাখা কপি তর্কে কাজে লাগে। লাগে বলে ড্রয়ার। ড্রয়ারে চেকের ফটো। ফটো টুল নয়, প্রমাণ। প্রমাণ রাখুন। টুল খসড়া মুছে ফেলতে পারেন পরে। পরে মানে জমা হওয়ার পর। আগে নয়। আগে মুছলে আবার লিখতে হয় ফেরত এলে। এলে খসড়া কাজে লাগে। লাগুক বলে খসড়া এক সপ্তাহ রাখুন। সপ্তাহ পরে মুছুন যদি জমা হয়। হয়নি তো রাখুন। রাখা ছোট অভ্যাস, ফেরতের লাইন ছোট করে। ছোট লাইন চাই। চাইলে অভ্যাস করুন আজকের চেক থেকে। থেকেই শুরু। শুরু ছোট। লাভ বড় পরে। পরে ব্যাংক খুশি, আপনিও। খুশি অঙ্ক ঠিক থাকলে আসে। ঠিক রাখুন। রাখতে টুল আর চোখ। চোখ শেষ বিচারক। বিচারক ঘুমোন না স্বাক্ষরের আগে। আগে জেগে দেখুন। দেখা শেষে স্বাক্ষর। স্বাক্ষর শেষে জমা। জমা শেষে শ্বাস। শ্বাস নিন। অঙ্ক এখন ব্যাংকের। ব্যাংক সামলাবে। আপনি খাতা বন্ধ করুন। বন্ধ করাও কাজ।