সকালে যে ফাইল ফেরত আসে
মোহাম্মদপুরের এক ছোট প্রেসে প্রায়ই একই ঘটনা ঘটে। কেউ ফোনে অভ্রতে নোটিশ লেখেন, হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। অপারেটর SutonnyMJ খুলে পেস্ট করেন। পর্দায় বাংলা নেই। তখন কেউ বলে আবার কনভার্ট করো। ক্ষ আর জ্ঞ দুবার ম্যাপিং খেয়ে আরও খারাপ হয়। দুপুর পর্যন্ত সময় চলে যায়।
সমস্যা অভ্রর না, প্রেসেরও না। সমস্যা হলো কেউ জিজ্ঞেস করেননি পরের মেশিন কী চায়। অভ্র আর Gboard ইউনিকোড দেয়। অনেক প্রেস এখনও বিজয় চায়, অর্থাৎ ANSI বাইট আর SutonnyMJ ফন্ট। দুটো আলাদা জিনিস। ফন্ট বদলালে এনকোডিং বদলায় না।
আগে চারটে কাজ করুন। প্রথম, দোকানকে জিজ্ঞেস করুন বিজয় না ইউনিকোড। দ্বিতীয়, নিজের লেখা ডিটেক্টরে দিন। তৃতীয়, গন্তব্য বিজয় চাইলে ইউনিকোড থেকে বিজয় একবারই চালান। চতুর্থ, গন্তব্য ফন্টে খুলে ক্ষ, জ্ঞ, ত্র পড়ুন। এই চারটে না করলে বাটন যতবার চাপুন, ফাইল ফেরত আসবে।
পরের সফটওয়্যারকে জিজ্ঞেস করুন, কাজনকে নয়
সহকর্মী বলতে পারেন “আমরা তো ইউনিকোডেই চলি”। প্রেস বলতে পারে “বিজয় দিন”। একই নোটিশ দুই জায়গায় গেলে দুই কপি রাখুন। এক কপিতে দুবার কনভার্ট করবেন না। ফেসবুক, জিমেইল, গুগল ডক ইউনিকোড চায়। পুরনো কম্পোজিং মেশিন বিজয় চাইতে পারে। নিশ্চিত না হলে দোকানে ফোন করুন। “নিরাপদে দুবার কনভার্ট” বলে কিছু নেই।
ফোনে অভ্র মানে প্রায় সবসময় ইউনিকোড। ওয়ার্ডে SutonnyMJ বেছে টাইপ করলে বিজয়। সমস্যা হয় যখন কেউ ইউনিকোড লেখা SutonnyMJ ফন্টে দেখায়, বা বিজয় লেখা সোলায়মানলিপিতে দেখায়। পর্দায় যা দেখেন, সেটা ফন্ট। ভিতরে কী আছে, সেটা এনকোডিং। ডিটেক্টর সেই ভিতরের কথা বলে।
ডিটেক্টর যদি মিশ্র বলে, পুরো নোটিশ একবারে কনভার্ট করবেন না। শিরোনাম ফোনে লেখা, বডি পুরনো ফাইল থেকে কপি—এটা খুব সাধারণ। সেই মিশ্রণ এক ক্লিকে ঠিক হয় না। আলাদা করে পরীক্ষা করুন।
একবার কনভার্ট, তারপর সেই আউটপুটে সম্পাদনা নয়
গন্তব্য বিজয় চাইলে ইউনিকোড খসড়া শেষ করে একবার কনভার্ট করুন। তারপর আর অভ্রতে সেই আউটপুট সম্পাদনা করবেন না। সংশোধন করতে হলে ইউনিকোড সোর্সে ফিরে যান, শেষে আবার একবার কনভার্ট করুন। বিজয় আউটপুটকে ইউনিকোডে নিয়ে আবার বিজয়ে নিলে যুক্তাক্ষর ভাঙে।
গন্তব্য ফেসবুক হলে উল্টো দিক: বিজয় থেকে ইউনিকোড। দুই দিক এক বাটন নয়। ভুল দিকে চাপলে বাংলা ইংরেজি-দেখতে হয়। আবার চাপলে আরও খারাপ।
কনভার্টের পর আউটপুটে ক্ষ, জ্ঞ, ত্র দেখুন। এই তিনটা ভুল হলে পুরো অনুচ্ছেদ বিশ্বাস করবেন না। একটি শিরোনামে ক্ষ ভুল মানে সেই শব্দ হাতে ঠিক করুন। পুরো ফাইল দ্বিতীয়বার কনভার্ট করলে যে লাইন ঠিক ছিল সেগুলোও সরতে পারে। নামের তালিকায় “লক্ষ্মী” বা “জ্ঞানেন্দ্র” আলাদা চোখ দিয়ে দেখুন।
হোয়াটসঅ্যাপ থেকে কপি করলে লুকোনো অক্ষর ঢোকে। পেস্ট ভাঙা দেখালে আগে টেক্সট ক্লিনার চালান, পরে কনভার্ট। ক্লিনার এনকোডিং বদলায় না, ময়লা সরায়। দুবার কনভার্ট করে ক্লিনার এড়াবেন না।
গন্তব্য ফন্টে খুলে পড়ুন
বিজয় পাঠাবেন বলে SutonnyMJ থাকা পিসিতে খুলুন। ফন্ট না থাকলে ইউনিকোড মেশিনে বিজয় টেক্সট ইংরেজি দেখাবে—এটা ব্যর্থতা নয়, এটাই পরীক্ষা। ইউনিকোড পাঠাবেন বলে ফোন বা ফন্টছাড়া পিসিতে খুলুন। বাংলা পড়া গেলে এনকোডিং ঠিক।
পিডিএফ যদি আগেই অনুমোদিত হয় আর অক্ষর আউটলাইন হয়ে থাকে, সেখানে আর এনকোডিং নেই। সেই পিডিএফ “কনভার্ট” করা যায় না। সম্পাদনাযোগ্য টেক্সট চাইলে সোর্স ফাইল লাগবে।
ফাইলের নামে এনকোডিং লিখে দিন। `notice-15-ashwin-bijoy.txt` দেখলে অপারেটর অনুমান করেন না। ইমেইলে চার লাইনই যথেষ্ট: এনকোডিং, ফন্টের নাম, কাগজের সাইজ, কত কপি। উপন্যাস নয়। জিপের ভিতরে পাইরেট ফন্ট প্যাক পাঠাবেন না।
এই পরামর্শ কখন কাজে লাগে না
আপনি যদি নিজে কম্পোজিটর হন আর পুরো কাজ বছর ধরে বিজয়ে চলে, এই সাইট লাগবে তখনই যখন কপি অনলাইনে যাবে। নিউজরুম যদি গত বছর ইউনিকোডে সরে গিয়ে থাকে, কনভার্ট ভুলে যান যতক্ষণ কেউ পুরনো ANSI না পাঠায়। ছবির জেপিজি বা স্ক্যান করা পাতা টেক্সট নয়, কনভার্টার সেখানে কিছু করে না। মাস্টহেডের শৈল্পিক অক্ষর দোকানের নিজস্ব ফন্টে বাঁধা থাকলে পাবলিক ম্যাপিং মিলবে না। সেই কয়টা অক্ষর হাতে ঠিক করুন।
শিক্ষার্থীর গুগল ডক অ্যাসাইনমেন্ট আর প্রেসের নোটিশ এক নয়। শিক্ষক পিডিএফ চেয়েছেন বলে বিজয় লাগে না। পরে কলেজ প্রেস SutonnyMJ চাইলে সেই কপি আলাদা কনভার্ট করুন, ইউনিকোড সোর্স রাখুন।
এই সাইট অভ্র বা বিজয় প্রকাশকের শাখা নয়। সব পুরনো বিজয় ভ্যারিয়েন্ট একভাবে ম্যাপে হয় না। নাম বা শিরোনাম ভুল দেখলে দশটা অক্ষর পাঠান, পুরো হোমপেজের স্ক্রিনশট নয়।
প্রেসের ভাষা আর ফোনের ভাষা
কম্পোজিটর যদি বলেন “বিজয় দিন”, তিনি ফন্টের নাম বলছেন না, এনকোডিং চাইছেন। আপনি যদি বলেন “আমি তো অভ্রতে লিখেছি, বাংলাই তো”, দুজনে দুই জিনিস বোঝেন। অভ্র ইউনিকোড দেয়। তাঁর মেশিন ANSI চায়। এই অনুবাদটা না হলে রাতভর ফাইল ঘোরে। দোকানে ফোন করে এক বাক্যে জিজ্ঞেস করুন: নতুন ফাইল ইউনিকোডে চলবে, নাকি আগের মতো SutonnyMJ লাগবে। উত্তর অনুসারে একবারই কনভার্ট করুন।
মোহাম্মদপুরে যে ছোট প্রেসের কথা বলেছি, সেখানে এক শিক্ষক তিনবার ফাইল পাঠিয়েছিলেন। প্রতিবার কেউ না কেউ “আরেকবার কনভার্ট করো” বলেছিলেন। ক্ষ শেষে কিংবদন্তির মতো ভেঙেছিল। চতুর্থবার তিনি ইউনিকোড খসড়া থেকে আবার শুরু করলেন, শেষে একবার ইউনিকোড থেকে বিজয় চালালেন। ফাইল বসে গেল। নতুন করে টাইপ করতে হয়নি। শুধু দিকটা ঠিক করতে হয়েছিল।
হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর আগে
হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিকোড চায়। প্রেসকে চ্যাট থেকে সরাসরি কপি করতে বললে তাঁরা ইউনিকোড পাবেন, অথচ মেশিনে বিজয় খুলবেন। তখন আবার জাঙ্ক। ভালো উপায় হলো গন্তব্য অনুসারে ফাইল বানানো। বিজয় চাইলে কনভার্ট করে ওয়ার্ড বা টেক্সট ফাইল দিন, চ্যাটের মেসেজ নয়। ইউনিকোড চাইলে চ্যাটই যথেষ্ট, অথবা গুগল ডক। ফাইলের নামে লিখে দিন “bijoy” বা “unicode”, যাতে অপারেটর অনুমান না করেন।
কেউ পিডিএফ পাঠান, ভাবেন সমস্যা মিটেছে। পিডিএফ ছবির মতো ঠিক দেখাতে পারে, কিন্তু প্রেস যদি পিডিএফ থেকে টেক্সট কপি করেন, এনকোডিং আবার ভাঙতে পারে। সম্পাদনার দরকার থাকলে সোর্স টেক্সট দিন। শুধু ছাপা হবে, বদলাবে না, তাহলে পিডিএফ চলে। এই প্রশ্নটা আগে করুন। পরে নয়।
নামের তালিকায় যুক্তাক্ষর বেশি। ক্ষ, জ্ঞ, ত্র, প্র—এগুলো দুবার ম্যাপিং খেলে চেনা যায় না। পুরো তালিকা এক ক্লিকে দুবার চালাবেন না। কয়েকটা নাম হাতে পড়ুন। একটা ভুল দেখলে সোর্সে ফিরে যান, আউটপুটে হাত দেবেন না। ডিটেক্টর মিশ্র বললে শিরোনাম আর তালিকা আলাদা করুন। স্কুলের নোটিশে এটা খুব হয়: শিরোনাম ফোনে, তালিকা পুরনো এক্সেল থেকে।
অফিসের খসড়া আর প্রেসের কপি
খসড়া অভ্রতে রাখুন, সহকর্মীরা কমেন্ট করতে পারেন। চূড়ান্ত হলে গন্তব্য অনুসারে এক কপি বানান। খসড়া আর প্রেস কপি এক ফাইলে রাখবেন না। কেউ খসড়ায় সংশোধন করে প্রেস কপি ভেবে পাঠান, তখন আবার বিভ্রান্তি। ফোল্ডারের নাম “draft-unicode” আর “press-bijoy” রাখলে নতুন মানুষও বোঝেন। এই ছোট শৃঙ্খলা অনেক রাত বাঁচায়।
প্রেস যদি এখন ইউনিকোডে উঠে থাকেন, পুরনো অভ্যাসে বিজয় দিয়ে তাঁদেরও কষ্ট দেবেন না। নতুন দোকানকে জিজ্ঞেস করুন। পুরনো ধারণা ধরে রাখবেন না। ঢাকার অনেক প্রেস এখন ইউনিকোড নেয়। মফস্বলের কিছু দোকান এখনো বিজয় চায়। শহর-গ্রাম নয়, সেই দোকানের সফটওয়্যার। ফোন করে নিশ্চিত হওয়া লজ্জা নয়। ভুল ফাইল পাঠানোই লজ্জা।
অভ্রতে লিখলে ইংরেজি শব্দ মাঝে মাঝে থেকে যায়—PDF, SSC, Word। সেগুলো কনভার্টার সাধারণত ছুঁয় না। সমস্যা হয় যখন কেউ পুরো ফাইলকে বারবার ঘোরান। ইংরেজি অক্ষর তখন উল্টে যেতে পারে। তাই একবার, শেষে, গন্তব্য ফন্টে খুলে পড়ুন। চোখ দিয়ে পড়া মেশিনের কাজ নয়, আপনার কাজ। টুল শুধু বাইট বদলায়। অর্থ বদলায় না, ভুল দিকে চাপলে অর্থও নষ্ট হয়।